পণবন্দি মুক্তি পাচ্ছেন, তবে ইজ়রায়েলের সব শর্ত মানতে নারাজ হামাস: বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

পণবন্দি মুক্তি পাচ্ছেন, তবে ইজ়রায়েলের সব শর্ত মানতে নারাজ হামাস মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাগত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড়। ইজ়রায়েলি পণবন্দিদের মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তবে ইজ়রায়েলের সব শর্ত…

January 17, 2025
1 min read

পণবন্দি মুক্তি পাচ্ছেন, তবে ইজ়রায়েলের সব শর্ত মানতে নারাজ হামাস

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাগত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড়। ইজ়রায়েলি পণবন্দিদের মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তবে ইজ়রায়েলের সব শর্ত মানতে তারা এখনও সম্মত হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে এই কথা জানিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া:

বুধবার রাতে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল-থানির মধ্যস্থতায় এবং আমেরিকা ও মিশরের সক্রিয় সহযোগিতায় গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তিতে সম্মত হয় ইজ়রায়েল এবং হামাস। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। নেতানিয়াহুর দফতর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘‘পণবন্দিদের পরিবারের কাছে এ বিষয়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’’

হামাসের শর্ত এবং ইজ়রায়েলের উদ্বেগ:

যদিও বৃহস্পতিবার সকালে নেতানিয়াহুর দফতর থেকে জানানো হয়, হামাস শেষ মুহূর্তে চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি মান্যতা দেয়নি। এমনকি, তারা চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।

হামাসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খারিজ করে তাদের নেতা সামি আবু জ়ুহরি বলেন, ‘‘নেতানিয়াহু যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। হামাস সংঘর্ষবিরতির চুক্তিকে মান্যতা দিচ্ছে এবং এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে না।’’

ইজ়রায়েলের

পণবন্দি সংকটের পটভূমি:

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাস আচমকাই গাজা থেকে ইজ়রায়েলে প্রবেশ করে এবং ইহুদি নাগরিকদের পণবন্দি করে। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইজ়রায়েলি সেনা গাজা ভূখণ্ডে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই সংঘর্ষের গত ১৬ মাসে ইজ়রায়েলের আক্রমণে প্রায় ৫৩ হাজার প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হামাসের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২,০০০ ইজ়রায়েলি নাগরিক।

দোহায় যুদ্ধবিরতির ঐকমত্য:

কাতারের রাজধানী দোহায় মধ্যস্থতার পর হামাস ঘোষণা করেছে যে তারা পর্যায়ক্রমে সব ইজ়রায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দেবে। এই ঘোষণার পর, যুদ্ধবিরতির আশা অনেকটাই বাড়লেও নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

রাজনৈতিক এবং মানবিক প্রভাব:

এমন একটি সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্য সংঘর্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন, এই ধরনের আলোচনা এবং শান্তি চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে, ইজ়রায়েল ও হামাসের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং শর্ত পূরণের ইস্যুতে যে সমস্যা রয়েছে, তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

ইজ়রায়েলের পণবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই চুক্তি কতটা কার্যকর হবে এবং কেমন করে এর বাস্তবায়ন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সইফ আলি খান: ৬টা কোপ, শিরদাঁড়ার পাশেই গভীর ক্ষত সইফের, অবস্থা কি আশঙ্কাজনক?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *