মেসি-এমবাপের পাশে সোনার বুটের দৌড়ে হালান্ড, নকআউটে নরওয়ে!
বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন এক নতুন গোলযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এক দিকে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে, অন্য দিকে আর্লিং হালান্ড। প্রথম দুই ম্যাচের পর সোনার বুটের লড়াই জমে উঠেছে দারুণভাবে। নরওয়ের তারকা হালান্ড টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও জোড়া গোল করে দলকে নকআউটে তুলে দিয়েছেন। একই দিনে জয় পেয়েছে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সও।
হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের উড়ান
সেনেগালের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নরওয়ে। প্রথমার্ধে মার্কাস হোমগ্রিন পেডারসেন গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিরতির পর মঞ্চ দখল করেন হালান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই নিজের প্রথম গোল করেন তিনি। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে। কিছুক্ষণ পর সেনেগালের ইসমাইলা সার একটি গোল শোধ করলেও দ্রুতই আবার আঘাত হানেন হালান্ড। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে এনে দেন তিনি।
শেষ দিকে সার আরও একটি গোল করলেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি সেনেগাল। ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে নরওয়ে। দুই ম্যাচে চার গোল করে হালান্ড এখন এমবাপের সমান তালে সোনার বুটের দৌড়ে রয়েছেন।
মাঠেই নৌকা চালিয়ে উদ্যাপন
জয়ের পর নরওয়ের ফুটবলারদের অভিনব উদ্যাপন নজর কাড়ে। খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরা সারিবদ্ধভাবে বসে নৌকা বাইচের ভঙ্গি করেন। সামনে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ড্রামের তালে ছন্দ তৈরি করেন, আর সেই তালে দাঁড় টানার অভিনয় করেন হালান্ডরা। গ্যালারিতেও সমর্থকদের একইভাবে উল্লাস করতে দেখা যায়। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়াল আলজেরিয়া
জর্ডনের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল আলজেরিয়া। ৩৬ মিনিটে নিজার আল রাশদানের গোলে এগিয়ে যায় জর্ডন। তবে ম্যাচের অধিকাংশ সময় বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল আলজেরিয়ার।
দ্বিতীয়ার্ধে তার ফলও মেলে। ৬৯ মিনিটে সমতা ফেরান নাধির বেনবোয়ালি। এরপর ৮২ মিনিটে আমিন গৌরি জয়সূচক গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই জয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল আলজেরিয়া।
মেসির বিশ্বরেকর্ড
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়ে আবারও নায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করলেও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি।
৩৮ মিনিটে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন মেসি। তিনি ছাড়িয়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়েকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল করে আর্জেন্টিনার ২-০ জয় নিশ্চিত করেন। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি গোলই এসেছে মেসির পা থেকে।
এমবাপের ধারাবাহিকতা
ফ্রান্সের হয়ে দুরন্ত ছন্দ বজায় রেখেছেন কিলিয়ান এমবাপে। ইরাকের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমার্ধেই দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল যোগ করে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত করেন।
দুই ম্যাচে চার গোল করে এমবাপে এখন হালান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে সোনার বুটের শীর্ষ লড়াইয়ে। ফ্রান্সও নকআউটে জায়গা পাকা করেছে।
বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার আগেই গোলদাতাদের প্রতিযোগিতা রীতিমতো উত্তেজনার শিখরে পৌঁছেছে। মেসির অভিজ্ঞতা, এমবাপের গতি আর হালান্ডের বিধ্বংসী ফিনিশিং— কে শেষ পর্যন্ত সবার উপরে থাকবেন, সেটাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?