অক্ষয় খন্নাকে দেখে কেন ভয় পেয়েছিলেন ক্যাটরিনা কইফ?
বলিউডে প্রথম সারির নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন অক্ষয় খন্না। ঐশ্বর্যা রাই, করিশ্মা কপূর থেকে শুরু করে ক্যাটরিনা কইফ— একের পর এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন তিনি। তবু সহকর্মীদের অনেকের কাছেই অক্ষয় ছিলেন এক রহস্যময় মানুষ। সেই রহস্যময়তার কারণেই একসময় ক্যাটরিনা কইফের মনে হয়েছিল, অক্ষয় যেন তাঁকে “কামড়ে দিতে পারেন”! এই অদ্ভুত অনুভূতির নেপথ্যে কী ছিল, তা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে খোলসা করেছিলেন ক্যাটরিনা।
অক্ষয় খন্নার জীবন শুরু থেকেই ছিল একটু আলাদা। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবার সান্নিধ্য থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তবে বড় হয়ে বাবার পথেই হেঁটে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সেই সময় প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক সাফল্য তাঁর ঝুলিতে আসেনি। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে প্রমাণ করেছেন চরিত্রাভিনেতা হিসেবে। সাম্প্রতিক কালে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে রেহমান ডাকাতের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ফের প্রশংসার আলো কেড়েছে।
২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রেস’ ছবিতে অক্ষয় খন্নার সঙ্গে প্রথমবার কাজ করেন ক্যাটরিনা কইফ। সেই সময় বলিউডে নিজের জায়গা ধীরে ধীরে শক্ত করছিলেন ক্যাটরিনা। শুটিং ফ্লোরে অক্ষয়ের সঙ্গে প্রথম আলাপেই তিনি একটু অস্বস্তি বোধ করেছিলেন। কারণ অক্ষয় ছিলেন অত্যন্ত চুপচাপ, নিজের কাজ ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই পরে ক্যাটরিনা মজা করে বলেছিলেন, “ওকে দেখে আমার মনে হত, এই বুঝি আমাকে কামড়ে দেবে। একেবারেই কথা বলত না!”
ক্যাটরিনার মতে, অক্ষয়ের নীরবতা প্রথমে তাঁকে ভীত করেছিল। শুটিংয়ের ফাঁকে সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে গল্পগুজব, হাসি-ঠাট্টায় অংশ না নিয়ে তিনি চুপচাপ নিজের জগতে থাকতেন। ক্যাটরিনার ধারণা ছিল, এই গম্ভীর মানুষটির কাছে যাওয়া মানেই যেন বিপদ ডেকে আনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভুল ভাঙে। ক্যাটরিনা নিজেই বলেন, “পরে বুঝলাম, মানুষটা ভীষণ ভাল। খুব নরম মনের। বাইরে থেকে যতটা কঠিন মনে হয়, ভিতরে ঠিক ততটাই সহজ।”
শুধু তাই নয়, এই ‘ভীতিকর’ মানুষটিই নাকি ক্যাটরিনাকে দাবা খেলাও শিখিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে পেশাদার সৌহার্দ্য তৈরি হয়। ক্যাটরিনা বুঝতে পারেন, অক্ষয়ের নীরবতা আসলে অহংকার বা রুক্ষতা নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বভাব। তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে ভালবাসেন এবং নিজের কাজটুকু মন দিয়ে করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ।
অক্ষয় খন্না বরাবরই লাইমলাইট এড়িয়ে চলেন। ইন্ডাস্ট্রির পার্টি, গসিপ বা সামাজিক আড্ডা— এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখাই তাঁর পছন্দ। তাঁর মতে, অভিনয়ের বাইরেও জীবনে বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময় প্রয়োজন। সেই কারণেই প্রতি শনি ও রবিবার তিনি আলিবাগের বাড়িতে কাটান। সঙ্গীহীন জীবন নিয়েও তিনি স্বচ্ছন্দ বলে জানিয়েছেন একাধিকবার। তাঁর কথায়, একা থাকলেও তিনি মোটেই একাকী নন।
ক্যাটরিনার সেই ‘কামড়ে দেওয়ার ভয়’ আজ শুনলে হাসিই পায়। তবে এই গল্পই প্রমাণ করে, মানুষকে প্রথম দেখায় বিচার করা কতটা ভুল হতে পারে। নীরবতার আড়ালেও যে গভীর মানবিকতা লুকিয়ে থাকতে পারে, অক্ষয় খন্না তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।