নিষিদ্ধ নগরীর অন্দরমহল!
চিনের রাজধানী বেজিংয়ের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক রহস্যময় স্থাপত্য— ‘ফরবিডেন সিটি’ বা নিষিদ্ধ নগরী। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর ইতিহাস। একসময় সম্রাটের অনুমতি ছাড়া এখানে প্রবেশের সাহস কেউ দেখাত না। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই প্রাসাদে ঢুকতে পারতেন না। নিয়ম ভাঙার শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড।
তবে ফরবিডেন সিটি শুধু একটি রাজপ্রাসাদ ছিল না; এটি ছিল প্রাচীরবেষ্টিত একটি পূর্ণাঙ্গ শহর। প্রায় ৭৭ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই নগরীর মধ্যে বাস করতেন সম্রাট, তাঁর পরিবার, শত শত উপপত্নী, মন্ত্রী, রাজবৈদ্য, সৈন্য ও পরিচারকেরা। এখানে ছিল নিজস্ব রান্নাঘর, গ্রন্থাগার, থিয়েটার, উপাসনালয়, কারখানা এবং বিশাল উদ্যান। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে প্রায় কোনও যোগাযোগ ছাড়াই চলত তাদের জীবন।
নগরীর চারপাশে ছিল উঁচু প্রাচীর ও গভীর পরিখা। নিরাপত্তার এমন ব্যবস্থা ছিল যে, এটি কার্যত এক দুর্গ-শহরে পরিণত হয়েছিল। পুরো বেজিং শহরের স্থাপত্য পরিকল্পনাও গড়ে উঠেছিল এই নগরীকে কেন্দ্র করে।
ফরবিডেন সিটির জন্মও কম নাটকীয় নয়। পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে মিং রাজবংশের সিংহাসন দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সম্রাট ঝু দি, যিনি পরে ইয়ংলে সম্রাট নামে পরিচিত হন, রাজধানী নানজিং থেকে বেজিংয়ে স্থানান্তর করেন। নিজের ক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তিনি নির্মাণ করেন এই বিশাল নগরী।
নিষিদ্ধ নগরীর জীবন ছিল একদিকে অপরিসীম বিলাসিতায় ভরা, অন্যদিকে কঠোর নিয়ম ও নিঃসঙ্গতায় আবদ্ধ। সম্রাটকে ভোর হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠতে হত। নির্দিষ্ট নিয়মে চলত রাজকীয় সভা ও প্রশাসনিক কাজ। বাইরের দুনিয়ায় তিনি ছিলেন সর্বশক্তিমান শাসক, কিন্তু প্রাসাদের ভিতরে তাঁর জীবনও ছিল নানা বিধিনিষেধে বাঁধা।
প্রাসাদের অন্দরমহল বা ‘ইনার কোর্ট’-এ থাকতেন শত শত উপপত্নী। তাঁদের জীবন ছিল রাজকীয় সুযোগ-সুবিধায় ভরপুর, কিন্তু একই সঙ্গে ছিল প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা ও একাকিত্বে পূর্ণ। সম্রাটের পরিবার ছাড়া অন্য কোনও পুরুষের সেখানে থাকার অনুমতি ছিল না।
পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চিনের রাজপরিবারের আবাসস্থল ছিল এই নগরী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর চারপাশে জন্ম নিয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি ও রহস্যকাহিনি। উপপত্নী ঝেনের করুণ মৃত্যুর গল্প থেকে শুরু করে অশুভ শক্তি তাড়ানোর নানা লোককথা আজও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
বর্তমানে ফরবিডেন সিটি ‘দ্য প্যালেস মিউজিয়াম’ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন চিনা সাম্রাজ্যের গৌরব, রহস্য এবং ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার জন্য। যদিও নগরীর প্রায় ৮০ শতাংশ অংশ এখন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত, তবু বাকি অংশ এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সেই অদেখা অংশ যেন আজও লুকিয়ে রেখেছে অতীতের বহু অজানা গল্প।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?