‘নিজ্জর খুনের ঘটনা মোদী জানতেন না’, নয়াদিল্লির চাপের মুখে অবস্থান বদলে বলল ট্রুডো সরকার

নিজ্জর খুনের ঘটনা মোদী জানতেন না কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরকার খলিস্তানি সন্ত্রাসবাদী হরদীপ সিংহ নিজ্জরের হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদপত্রের রিপোর্ট খারিজ করেছে। বৃহস্পতিবার, কানাডার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম…

November 22, 2024
0 min read

নিজ্জর খুনের ঘটনা মোদী জানতেন না

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরকার খলিস্তানি সন্ত্রাসবাদী হরদীপ সিংহ নিজ্জরের হত্যার ঘটনায় সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদপত্রের রিপোর্ট খারিজ করেছে। বৃহস্পতিবার, কানাডার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল যে, খলিস্তানি জঙ্গিদের হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি জানতেন। তবে, এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর, ভারতের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয় এবং এরপরে ট্রুডো সরকার নিজেদের অবস্থান বদল করে জানায় যে, এমন কোনও প্রমাণ নেই, যার মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার কথা প্রমাণিত হয়।

কানাডার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রধানমন্ত্রী মোদী, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে জানানো হয়েছিল। তবে ট্রুডো সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, “কানাডায় কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নরেন্দ্র মোদী বা তাঁর সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার প্রমাণ নেই।”

প্রসঙ্গত, গত ১৩ অক্টোবর কানাডার সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে যাঁদের স্বার্থ জড়িত, সেই তালিকায় ভারতীয় হাই কমিশনার সঞ্জয় কুমার বর্মার নাম ছিল। এর পরই ভারতীয় কূটনীতিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কানাডার কয়েকজন কূটনীতিককে “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করা হয়। ভারত সরকারের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, কানাডার আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টরপন্থী খলিস্তানি গোষ্ঠীগুলির সমর্থন পেতে ট্রুডো সরকার নতুন করে এই বিতর্ক উত্থাপন করছে।

এই ঘটনায় কানাডার মন্ত্রী ডেভিড মরিসন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তাঁর নির্দেশেই কানাডায় খলিস্তানিদের বিরুদ্ধে হামলা এবং ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এখন, ট্রুডো সরকারের তরফে এই বিতর্কের কিছুটা সুরাহা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে যে, তারা কোনও প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করেছে এবং এই ধরণের অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

এখন, এই পরিস্থিতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, এই রাজনৈতিক উত্তেজনা কানাডা এবং ভারতের সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে। সম্পর্কের এত গভীর বিবাদ যে শীর্ষ কূটনীতিকদের ফেরত পাঠানো পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য একটি বড় ইঙ্গিত। ভারতের পক্ষ থেকে যেখানে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেখানে কানাডা সরকার তার অবস্থান পরিবর্তন করে সঠিক প্রমাণের অভাবের কথা জানাচ্ছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় প্রশাসন আশা করছে, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে এই ধরনের বিতর্কের আর কোনও উদাহরণ তৈরি না হোক, এবং সম্পর্কের উন্নতির জন্য আরও সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হোক।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *