নিজের গড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু!
নন্দীগ্রাম আবারও প্রমাণ করল— এই কেন্দ্র এখন পুরোপুরি শুভেন্দু অধিকারী-র দখলে। পাঁচ বছর আগে যেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল, এ বার সেখানে প্রায় একপেশে জয় পেল বিজেপি। ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতে শুভেন্দু তাঁর গড়কে আরও শক্ত করলেন।
তৃণমূলের পক্ষে এই ফল শুধু হার নয়, কৌশলগত ব্যর্থতারও ইঙ্গিত। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী— “নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতছে”— পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হল। বিজেপি থেকে ভেঙে আনা পবিত্র করকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তও শেষ পর্যন্ত কাজে এল না।
নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন নয়। ২০২১ সালে এখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে হারিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন শুভেন্দু। সে বার ব্যবধান ছিল মাত্র ১,৯৫৬ ভোট। কিন্তু এ বার সেই ব্যবধান অনেকটাই বেড়েছে, যা স্পষ্ট করে দেয়— গত পাঁচ বছরে এলাকায় বিজেপির সংগঠন আরও মজবুত হয়েছে।
তৃণমূল অবশ্য এই সময়টা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। সংগঠন ঢেলে সাজানো, নেতৃত্বে বদল, এমনকি ব্লক স্তরে নতুন কাঠামো তৈরির মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দলের ভিতরে অবিশ্বাস ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাটেনি। স্থানীয়ভাবে একটা কথাও চালু ছিল— “দিনে তৃণমূল, রাতে শুভেন্দু”— যা অনেক কিছুই বুঝিয়ে দেয়।
অন্যদিকে বিজেপি শুরু থেকেই দাবি করে এসেছে, নন্দীগ্রামে তাদের সংগঠন ইস্পাতের মতো শক্ত। সেই দাবির প্রতিফলন দেখা গেল ভোটের ফলাফলে। এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণও গত পাঁচ বছরে আরও তীব্র হয়েছে, যা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
প্রার্থী নির্বাচনেও তৃণমূলের কৌশল স্পষ্ট ছিল। সংখ্যালঘু ভোট নিশ্চিত ধরে নিয়ে, হিন্দু ভোটে ভাঙন ধরানোর লক্ষ্যেই পবিত্র করকে সামনে আনা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই সমীকরণ কাজ করেনি। বরং বিজেপি আগের তুলনায় আরও বেশি সমর্থন পেয়েছে। গত লোকসভা ভোটে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়-এর যে লিড ছিল, এ বার তা আরও ছাপিয়ে গেছে।
ভোটের দিন দুই প্রার্থীর প্রচারের ধরনেও পার্থক্য চোখে পড়েছে। শুভেন্দু গোটা কেন্দ্র জুড়ে সক্রিয় ছিলেন, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অন্যদিকে, পবিত্র তুলনায় অনেকটাই সীমাবদ্ধ ছিলেন নির্দিষ্ট এলাকায়।
নন্দীগ্রামের ইতিহাসও এই ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালের জমি আন্দোলন এই অঞ্চলের রাজনীতিকে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। সেই আন্দোলন থেকেই উঠে এসেছিলেন শুভেন্দু, আর সেই স্মৃতিই আজও তাঁর রাজনৈতিক শক্তির বড় ভিত্তি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নন্দীগ্রাম এখন আর শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়— এটি শুভেন্দুর রাজনৈতিক দুর্গ। নতুন সরকার গঠনের পরে তাঁর ভূমিকা কতটা বাড়ে, তার উপর নির্ভর করবে এই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ গুরুত্বও।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা