‘নারীবিদ্বেষ বরদাস্ত নয়’: ধর্ষণকাণ্ডে কল্যাণ-মদনকে নিশানা করেই মুখ খুললেন মহুয়া, অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূলে

ধর্ষণকাণ্ডে কল্যাণ-মদনকে নিশানা করেই মুখ খুললেন মহুয়া, অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূলে কসবার কলেজে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় একদিকে যখন তদন্ত চলছে, অন্যদিকে রাজনীতিতে বাড়ছে চাপানউতোর। অভিযুক্তরা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত,…

June 29, 2025
1 min read

ধর্ষণকাণ্ডে কল্যাণ-মদনকে নিশানা করেই মুখ খুললেন মহুয়া, অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূলে

কসবার কলেজে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় একদিকে যখন তদন্ত চলছে, অন্যদিকে রাজনীতিতে বাড়ছে চাপানউতোর। অভিযুক্তরা শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, এমন অভিযোগ ঘিরে শাসকের অন্দরেই এখন অস্বস্তির পরিবেশ। এই পরিস্থিতিতে দলের দুই হেভিওয়েট নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মদন মিত্রের মন্তব্য ঘি ঢালে আগুনের কাজ করে। তৃণমূল যদিও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাঁদের বক্তব্য নিছকই ব্যক্তিগত, দল কোনওভাবেই এমন মন্তব্যকে সমর্থন করে না। আর সেই প্রতিক্রিয়াকে হাতিয়ার করেই মুখ খুলেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

ঘটনার সূত্রপাত ২৫ জুন। দক্ষিণ কলকাতার ল কলেজের মধ্যেই এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরের দিনেই পুলিশ গ্রেফতার করে তিন যুবককে, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। জানা যায়, অভিযুক্তরা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য। শুরু থেকেই শাসক দল জানিয়েছিল, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কোনও রেয়াত হবে না। কিন্তু কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি বলেন, “সহপাঠী যদি সহপাঠিনীকে ধর্ষণ করে, নিরাপত্তা দেবে কে?” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি যেন দায় চাপালেন কলেজ প্রশাসনের বা পুলিশের ঘাড়ে। এরপর মদন মিত্রের বক্তব্য— “মেয়েটি সেখানে না গেলে ঘটনাই ঘটত না”— আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। তার মানে, একজন ধর্ষিতার দিকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হল!

এই দুই নেতার মন্তব্যকে একেবারে দায় এড়িয়ে তৃণমূল জানিয়ে দেয়, দল এই ধরনের বক্তব্য সমর্থন করে না। বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, “মহিলাদের উপর যে কোনও ধরনের অপরাধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মানি। এই ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

তৃণমূলের এই বিবৃতিই শেয়ার করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মহুয়া। নাম না করলেও পরোক্ষে তোপ দাগেন কল্যাণ ও মদনের দিকে। লেখেন, “নারীবিদ্বেষ ভারতের প্রতিটি দলে রয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের যে গর্ব করার জায়গা আছে, তা হল আমরা এসব বিরক্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করি, তা সে যেই বলুন না কেন।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মহুয়ার পুরনো বিরোধের কথা অবশ্য রাজ্য রাজনীতির কারও অজানা নয়। লোকসভা চত্বরে তাঁদের মুখোমুখি দ্বন্দ্বের কথা থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়ার ঘটনাও সেই তালিকায়। এমনকি কল্যাণ একবার মন্তব্য করেছিলেন, “সব দু’নম্বরি নেতারা এক জায়গায় হয়েছে”— যা সরাসরি মহুয়ার দিকেই ইঙ্গিত করেছিল। মহুয়ার বিদেশি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উপহার নেওয়ার অভিযোগে সংসদ বহিষ্কারের প্রসঙ্গও সেই বিতর্কে যুক্ত হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে ধর্ষণকাণ্ডে দলেরই দুই নেতার বিতর্কিত মন্তব্য এবং মহুয়ার জবাব নতুন করে বিতর্কে জ্বালানি জুগিয়েছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের অন্দরের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উইম্বলডনে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে আলকারাজ়, জোকোভিচের প্রতিপক্ষ মুলার, তাপপ্রবাহে চিন্তায় আয়োজকরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *