নারীদের শত্রু নারীরাই?
আমরা কি সত্যিই এগিয়ে যাচ্ছি, নাকি আবার পিছিয়ে পড়ছি? সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে যতই আলোচনা হোক, বাস্তবিক পরিবর্তন কতটুকু হচ্ছে? আমাদের বিনোদন জগতে, অফিস-আদালতে, সর্বত্রই নারীরা নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হলো, অনেক সময় নারীরাই নারীদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান। এটি কি সমাজের পিতৃতান্ত্রিক গঠনের ফল, নাকি নিজেদের অজ্ঞতার কারণে আমরা এই ফাঁদে পড়ে যাচ্ছি বারবার?
প্রথার বেড়াজালে নারীরা
আমার মা ১৮ বছর বয়সেই বিয়ে করেছিলেন। তারপর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। দুই বছরের মধ্যে আমার জন্ম। সেই সময় সমাজ ঠিক করে দিত, নারীর জীবনের ধাপ কীভাবে চলবে। আজও অনেক পরিবারে একই রীতি চলছে। তবে আমার মা আমাকে শিখিয়েছিলেন, বিয়ের আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। ছোট ছোট শিক্ষাগুলোই নারীর অধিকারের সংগ্রামের ভিত্তি গড়ে তোলে। আজ আমি নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি কারণ মা আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কত মেয়ের ভাগ্যে এই সুযোগ আসে?
নারী দিবসের বাস্তবতা
আজকাল নারী দিবস ঘটা করে উদযাপন করা হয়। বড় বড় বক্তৃতা, নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। কিন্তু আমরা কি জানি, এই দিবসের ইতিহাস? নারীর প্রতি বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা, কর্মক্ষেত্রে অসম আচরণ, এসব সমস্যার সমাধান কতটা হয়েছে? একটি দিন নারীদের সম্মান জানিয়ে কি বাকি ৩৬৪ দিন তাদের প্রতি অবহেলা মুছে ফেলা সম্ভব? যদি নারীর সমান অধিকারই থাকে, তবে পুরুষ দিবস নিয়ে তো তেমন আলোচনা হয় না! তবে কি নারীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করতেই এই দিবসের প্রচলন? নাকি এটি কেবল একটি প্রতীকী আয়োজন?
কাজের জগতে নারীদের সংগ্রাম
আমার ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যের বড় কোনো অভিজ্ঞতা হয়নি। তবে সব নারী কি এতটা ভাগ্যবান? সম্প্রতি আমাদের বিনোদন জগতে এক পরিচালকের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন এক অভিনেত্রী। আমি সেই অভিযোগের সমর্থনে স্বাক্ষর করেছি কারণ আমি বিশ্বাস করি, “আমার সঙ্গে হয়নি বলে অন্য কারও সঙ্গে হয়নি”—এই ধারণা ভুল। কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার অনেকেই হন, কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না।
নারীর বিরুদ্ধে নারী
মেয়েরা মেয়েদের শত্রু—এই ধারণাটি একেবারে মিথ্যা নয়। অনেক সময় ক্ষমতার লোভে, প্রতিযোগিতার কারণে, অথবা পুরুষতন্ত্রের প্রভাবেই নারীরা অন্য নারীদের পেছনে টেনে ধরেন। নারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার, কিন্তু আমরা অনেক সময়ই দেখি, অন্য নারীর সাফল্যকে প্রশংসার বদলে হীনমন্যতার চোখে দেখা হয়। নারীদের নিজেদেরই নিজেদের স্বার্থের জন্য লড়তে হবে, অন্য নারীদের পথের কাঁটা হয়ে নয়।
নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র দরকার
আমরা কি সত্যিই নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি? না হলে কেন এখনো কাস্টিং কাউচের মতো ঘটনা ঘটে? কেন এখনো অনেক নারী ভয়ে চুপ থাকেন? আমি মনে করি, একটি শক্তিশালী ফোরাম তৈরি করা দরকার, যেখানে নারীরা নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং ন্যায়বিচার পাবেন। নারীদের সুরক্ষার দায় নারীরাই নেবে, কিন্তু সঠিক ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যার কোনো সমাধান আসবে না।
নারীরা পিছিয়ে পড়বে না
আমাদের ভয় হয়, আমরা কি আবার পিছিয়ে পড়ছি? যদি নতুন প্রজন্মের মেয়েরা কর্মক্ষেত্রে অনিরাপত্তার কারণে এগোতে না চায়, তাহলে তো নারীর সংখ্যা আরও কমবে। আমরা কি আবার সেই যুগে ফিরে যাব, যখন মেয়েদের চরিত্রেও পুরুষরাই অভিনয় করতেন? সময় এসেছে পরিবর্তনের। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সাহসের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে এবং নিজেদের জন্য নিরাপদ এক ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।
ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও