‘নাই রবি’: আধুনিক সমাজের প্রশ্নের মুখে রবীন্দ্রনাথের সুরে উত্তর খোঁজার প্রয়াস

আধুনিক সমাজের প্রশ্নের মুখে রবীন্দ্রনাথের সুরে উত্তর খোঁজার প্রয়াস! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক অভিনব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান— ‘নাই রবি’। নামটা শুনলেই কানে ভেসে আসে “সকালবেলার আলোয় বাজে…

August 1, 2025
1 min read

আধুনিক সমাজের প্রশ্নের মুখে রবীন্দ্রনাথের সুরে উত্তর খোঁজার প্রয়াস!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক অভিনব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান— ‘নাই রবি’। নামটা শুনলেই কানে ভেসে আসে “সকালবেলার আলোয় বাজে বিদায় ব্যথার ভৈরবী” গানটি, আর সেখান থেকেই এই নামকরণ। ২২ শ্রাবণ, কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এই ভাবনাসমৃদ্ধ অনুষ্ঠান, যেখানে গান, কবিতা আর আলোচনা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক গভীর শিল্পসন্ধ্যা।

রাহুল মিত্র, জয় গোস্বামী ও স্বামী শিবপ্রদানন্দ— এই তিনজনের মেধা ও অনুভবেই তৈরি হয়েছে ‘নাই রবি’র অবয়ব। প্রথম পর্বে রবীন্দ্রনাথের গান ও কাব্যের মাধ্যমে তাঁকে উদ্দেশ করে সমাজের কিছু প্রশ্ন তোলা হবে। দ্বিতীয় ভাগে সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কবিগুরুরই গান, গদ্য আর কাব্যের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সৌরভ চট্টোপাধ্যায়।

রাহুল মিত্র বলেন, “রবীন্দ্রনাথের গান যে উচ্চতায় পৌঁছনোর কথা ছিল, তা নানা কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর সৃষ্টিকে নিজেদের প্রচারের হাতিয়ার করেছেন, আবার তাঁর শিল্পকেই অপমান করেছেন। এই অবক্ষয় দেখে মনে হচ্ছে, যেন কেউ তাঁকে বলছে, ‘তুমি আর এসো না’। কিন্তু উত্তরটা দিচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ নিজেই— তাঁর সৃষ্টি দিয়ে। তাই এই অনুষ্ঠানে আমরা কবিরই ভাষায় তাঁর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি।”

অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হবে রাগভিত্তিক বেশ কিছু গান। যেমন— কাফি রাগে ‘এ পরবাসে’, বেহাগে ‘চিরসখা হে’, কামোদ রাগে ‘অমৃতের সাগরে’, আর ভৈরবীতে ‘বাঁধন ছেড়ার সাধন হবে’। এই তালিকাই প্রমাণ করে, রবি-সঙ্গীতে কতটা নিবিড়ভাবে মিশে রয়েছে রাগসঙ্গীতের ছোঁয়া।

কবিতা পাঠে থাকছেন খ্যাতনামা কবি জয় গোস্বামী, যিনি জানান, “রাহুলের সঙ্গে আমার কাজ প্রায় ২০ বছরের। প্রতিটি অনুষ্ঠানই একে অপরের থেকে আলাদা হয়। এখানে ‘নাই রবি, আছ অন্তরে’— এই ভাবনাটিকে কেন্দ্র করে কবিগুরুর কাব্য আর গানকে নতুনভাবে তুলে ধরা হবে।”

এই অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট গভীর। একদিকে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে আজকের সমাজের নানা বিতর্ক আর অসংবেদনশীল উপস্থাপন, অন্যদিকে সেই রবীন্দ্রনাথই নিজস্ব সাহিত্য ও সঙ্গীতের ভান্ডার থেকে উত্তর দেন সমস্ত অভিযোগের। অনুষ্ঠানটিকে কেবল শ্রদ্ধার্ঘ্য বলা ভুল হবে— এটি এক ধরণের আত্মজিজ্ঞাসা এবং আত্মপাঠ।

৫ আগস্ট জিডি বিড়লা সভাঘরে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানটি শুধুই সুর-সাহিত্যের উপভোগ নয়, বরং এটি এক গভীর মননচর্চা, যেখানে রবীন্দ্রনাথ নিজেই যেন উঠে আসেন সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে, প্রশ্ন শুনে উত্তর দেন তাঁর রচনার মাধ্যমে।

সঙ্গীতে অংশ নিচ্ছেন দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়, হাসান হায়দার খান, গৌতম দত্ত ও শুভ্রজ্যোতি সেন— যাঁদের সহযোগিতায় তৈরি হবে এক চিরকালীন শ্রুতিমধুর সন্ধ্যা। ‘নাই রবি’ শেষ পর্যন্ত বোঝাতে চায়— কবি হয়তো বাহ্যিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টিতে তিনি রয়ে গেছেন আমাদের মধ্যেই।

সুনামির আতঙ্কে থমকে নেই লিভারপুলের জাপান সফর, মারিয়ানোসের বিরুদ্ধে জয়ের আনন্দ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *