ট্যাংরার ভয়াবহতার পর এগিয়ে চলেছে কিশোর প্রতীপ!
মাত্র ক’মাস আগেও প্রতিদিন দিদির সঙ্গে স্কুলে যেত প্রতীপ। ছিল সুখী পরিবার, ছিল নিজের ঘর, বন্ধু, স্কুল আর ছেলেমানুষি জীবনের ছোট ছোট স্বপ্ন। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি সবকিছু এক মুহূর্তে পাল্টে গেল। ট্যাংরার দে পরিবারে ঘটে গেল এক নারকীয় ঘটনা—মা রোমি দে, কাকিমা সুদেষ্ণা দে এবং খুড়তুতো দিদি প্রিয়ম্বদা—তিন জনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হল নিজেদের বাড়ি থেকে। খুনের অভিযোগ উঠল কাকা প্রসূনের বিরুদ্ধে। বাবা প্রণয় দে এখনও হাসপাতালে, আর প্রতীপ? একা। অথচ এখনও কিশোর, বয়স মাত্র ১৪।
ঘটনার দিন পরিবারের এই ভয়াবহ পরিণতির সাক্ষী থেকেছে প্রতীপ নিজে। এমনকি নিজেকেও বাঁচাতে হয়েছে মৃত্যুর হাত থেকে—জোর করে মুখ চেপে ধরা হয়েছিল বালিশ, মৃত্যু ভান করে কোনও রকমে সে টিকে ছিল। এরপর কাকা প্রসূন এবং বাবা প্রণয় তাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন এবং তাঁদের গাড়ি বাইপাসে দুর্ঘটনার শিকার হয়। কাকা গ্রেফতার হয়েছেন, বাবার বিরুদ্ধে এখনও চলছে তদন্ত।
ঘটনার পরে কোনও আত্মীয় বা পরিচিত এগিয়ে আসেনি প্রতীপের দায়িত্ব নিতে। ফলে এখন তার ঠিকানা একটি সরকারি হোম। সেখানে চলছে মানসিক কাউন্সেলিং, যাতে ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতা কাটিয়ে উঠতে পারে সে। শিশুকল্যাণ কমিটির উদ্যোগে প্রতীপকে নতুন স্কুলে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি চলছে। নতুন ক্লাস, নতুন সহপাঠী, নতুন পথ—এ যেন জীবনের এক নতুন অধ্যায়, যেখানে প্রতিটি দিনই প্রতীপের কাছে একেকটা নতুন যুদ্ধ।
আগে ট্যাংরার একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত সে। বছর শেষের পরীক্ষাও শুরু হয়ে গিয়েছিল, তবে পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণে শেষ করা হয়নি। তাই যাতে একাডেমিক বছর নষ্ট না হয়, সেই জন্য হোম কর্তৃপক্ষ প্রতীপকে অষ্টম শ্রেণিতে পুনরায় ভর্তি করাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতীপ স্কুলে যাওয়ার জন্য উৎসাহী, তবে শরীর ও মন এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়—আরও কিছুটা সময় লাগবে।
প্রতীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। হোমে থেকে যাবে না কি কেউ দত্তক নেবে? কয়েকটি পরিবার আগ্রহ দেখালেও দত্তকের প্রক্রিয়া সহজ নয়। প্রতীপের বয়স প্রায় ১৫, এবং বাবা জীবিত—তাঁর সম্মতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রতীপের নিজের মতও গুরুত্বপূর্ণ।
এই কিশোর ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছে। জানিয়েছে, কীভাবে এক সপ্তাহ ধরে বিষ দেওয়া পায়েস খাওয়ানো হয়েছিল, কীভাবে আত্মহত্যার পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছিল ওদের দু’জন নাবালককে, কীভাবে তার মা ও কাকিমার শিরা ও গলা কেটে দেন কাকা, যখন বিষে কাজ হচ্ছিল না।
আজ প্রতীপ একটি ঘোরতর বাস্তবের মুখোমুখি—যেখানে পরিবার, ঘর, দিদি কিংবা খেলার সঙ্গী কেউ আর নেই। কিন্তু আছে অদম্য এক মনোবল, আছে এক নতুন আশ্রয়, নতুন পাঠশালা, আর নিজেকে হারিয়ে না ফেলে আবার জীবন শুরু করার অদম্য চেষ্টা।
পাকিস্তানি ভাইবোনদের উদ্দেশে রণবীরের পোস্ট কেন মুছলেন? বিতর্কের মধ্যে সাফাই দিলেন অভিনেতা