নতুন অর্থবর্ষে বেতন বৃদ্ধি!
বেসরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর! বিশ্বব্যাপী আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং ধীরগতির অর্থনীতি সত্ত্বেও ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতে গড় বেতন বৃদ্ধি হবে ৯.২ শতাংশ। সম্প্রতি সমীক্ষক সংস্থা আওন পিএলসি প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। যদিও গত বছর এই হার ছিল ৯.৩ শতাংশ, তবু সামগ্রিক বাজার বিশ্লেষণে এটি যথেষ্ট ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সমীক্ষায় কী বলছে আওন?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে আওন জানিয়েছে, ভারতের অর্থনৈতিক সূচক এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। সমীক্ষার জন্য ৪৫টি শিল্পক্ষেত্রের ১,৪০০-র বেশি সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ভারতের কর্পোরেট সংস্থাগুলি এই বছরও কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেবে, যদিও বৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে।
গত কয়েক বছরে ভারতীয় চাকরির বাজারে বেতন বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী। ২০২২ সালে কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় কর্পোরেট সংস্থাগুলি ১০.৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে পরবর্তী দুই বছরে এটি ক্রমশ কমেছে।
কেন কমছে বেতন বৃদ্ধির হার?
আওনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার হার ছিল ২১.৪ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালে তা ১৮.৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে ১৭.৭ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, কর্মীদের নতুন চাকরির সন্ধানে বের হওয়ার প্রবণতা কমছে, ফলে কর্পোরেট সংস্থাগুলি বেতন বাড়ানোর চাপ কিছুটা কম অনুভব করছে।
এছাড়াও, গ্লোবাল অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন ভারতের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির বিকাশ কর্পোরেট দুনিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন কোন ক্ষেত্রে বেতন বাড়তে পারে সবচেয়ে বেশি?
সমীক্ষা অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং, গাড়ি শিল্প ও গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী সংস্থাগুলিতে বেতন বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি হবে, যা গড়ে ১০.২ শতাংশ।
এছাড়া, ব্যাঙ্কিং ছাড়া অন্যান্য আর্থিক সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও স্টার্টআপ সংস্থাগুলিতে এই হার কিছুটা কম থাকতে পারে, কারণ এই খাতে বিশ্বব্যাপী মন্দার প্রভাব পড়েছে।
কর্পোরেট সংস্থাগুলির জন্য কী বার্তা?
বেতন বৃদ্ধি কম হলে প্রতিভাবান কর্মীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে, এমনটাই সতর্ক করেছে আওন। বিশেষ করে, দক্ষ ও কর্মদক্ষ যুবকদের নতুন সুযোগের সন্ধানে অন্য সংস্থায় চলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে আওনের ট্যালেন্ট সলিউশনস অফ ইন্ডিয়ার অংশীদার রূপঙ্ক চৌধুরী জানিয়েছেন—
“বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের বাজার এখনও শক্তিশালী। গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এতে কর্পোরেট সংস্থাগুলির লাভ বাড়বে এবং কর্মীদের বেতন বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে।”
কর্মীদের জন্য কী বার্তা?
যদিও বেতন বৃদ্ধির হার সামান্য কমেছে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি ইতিবাচক প্রবণতা বহন করছে। যারা নতুন চাকরির সন্ধানে রয়েছেন বা ক্যারিয়ারে উন্নতি চান, তাদের জন্য এখনও ভালো সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো নতুন প্রযুক্তি শেখা বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
শেষ কথা
নতুন অর্থবর্ষে বেতন বৃদ্ধির হার গত বছরের তুলনায় সামান্য কম হলেও, এটি এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। ভারতের অর্থনীতির বিকাশ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বেতন বৃদ্ধি আরও ইতিবাচক হতে পারে। কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হতে হবে, আর কর্পোরেট সংস্থাগুলির উচিত প্রতিভাবান কর্মীদের ধরে রাখতে নীতি পুনর্বিবেচনা করা। ২০২৫ সাল কর্মজীবীদের জন্য নতুন সুযোগের বার্তা বয়ে আনবে, এমনটাই আশা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গবেষণার আড়ালে সামরিক পরিকল্পনা? সমুদ্রের গভীরে চিনের রহস্যময় কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ