গিরিশ ঘোষের চরিত্র নিয়ে বিস্ফোরক ব্রাত্য বসু!
নটী বিনোদিনী ও গিরিশ ঘোষ— বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে এই দুই নাম যেন চিরকাল মিলে গিয়েছে। কিন্তু এই সম্পর্ক শুধুই কি গুরু-শিষ্যার? নাকি এর গভীরে ছিল আরও কিছু? পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’–তে গিরিশ ঘোষের চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেতা ও মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আর এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি সামনে আনলেন এক বিতর্কিত অথচ বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি।
মিনার্ভা থিয়েটারে ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রাত্য বলেন, “বিনোদিনী গিরিশ ঘোষকে শিক্ষক হিসেবে দেখতেন, শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু গিরিশ তাঁকে বরাবরই দেখেছেন একজন বারবণিতা হিসেবে। তাঁর কাছে নটী ছিলেন সোনার ডিম পাড়া হাঁস— যাঁর নামেই টিকিট বিক্রি হতো, অথচ যাঁকে সম্মান দেওয়া হয়নি।”
ব্রাত্যের কথায়, বিনোদিনীর অসামান্য অভিনয় প্রতিভাকে গিরিশ অস্বীকার করেননি। বরং স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি মঞ্চের প্রথম ‘স্টার’। কিন্তু ব্যক্তি বিনোদিনীর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল মূলত ব্যবসায়িক ও ব্যবহারিক।
ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব নাট্যজগতে
ব্রাত্য আরও জানান, গিরিশ ঘোষের ব্যক্তিগত জীবনেও বিনোদিনীর ভূমিকা অনন্য হলেও যথাযথ মর্যাদা তিনি পাননি। গিরিশের প্রথম স্ত্রী প্রমোদিনী মারা যান তাঁর দেওয়া ওষুধ খেয়ে। সেই অপরাধবোধ থেকেই গিরিশ চরম হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন। তখন প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে বিনোদিনীর বাড়িতে বসত মদের আসর। বিনোদিনী বাধ্য হয়ে সেই পরিস্থিতি মেনে নিতেন।
এই সব বাস্তব তথ্য ব্রাত্য পেয়েছেন তাঁর চরিত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে। তাঁর কথায়, “এই সম্পর্কটা জটিল। গিরিশ কখনও প্রকাশ্যে বলেননি যে বিনোদিনীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। অথচ, সেই মেয়েটিকেই তিনি বারবার ব্যবহার করেছেন নিজের যন্ত্রণা থেকে বেরোতে।”
ছবির নির্মাণ ও সময়ের সেতু
ছবিতে তিনটি সময়কালকে এক সূত্রে বেঁধেছেন পরিচালক সৃজিত। থাকবে শ্রীচৈতন্যদেবের যুগ, তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী সময় এবং বর্তমান কাল। ব্রাত্য বললেন, “গিরিশ ঘোষ ছবিতে একবারই আসবেন। কিন্তু সেই দৃশ্যগুলির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী।” ব্রাত্যর মতে, সময় পাল্টালেও নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যেন আজও বদলায়নি।
রাজনীতি ও অভিনয়ের জোড়া দায়
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাঝেও অভিনয়ের প্রতি নিজের নিষ্ঠা ধরে রেখেছেন ব্রাত্য। তাঁর মতে, “আমি প্রথমে একজন অভিনেতা। রাজনীতিটা পরে এসেছে। থিয়েটার, পরিচালনা, অভিনয়— সব কিছুতেই সমান ভালোবাসা আছে।” এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি যেমন নিজের শিল্পীসত্তাকে আরও গভীরভাবে আবিষ্কার করছেন, তেমনই অভিনেতা গিরিশ ঘোষের অন্তর্জগতকেও প্রকাশ্যে আনছেন নতুন ভাবে।
এই ছবি কেবল ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ নয়— এক নারীর আত্মমর্যাদা, এক পুরুষের দ্বিধা এবং শিল্পের রাজনৈতিক অর্থবোধ— সব কিছু মিলেই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। ব্রাত্যের চোখ দিয়ে দেখা গিরিশ যেন নাট্য মঞ্চের প্রতিভাধর অথচ সংকীর্ণপন্থী এক মুখ।
জৌলুস ছেড়ে যোগপথে জ্যাকলিন! রবি শঙ্করের আশ্রমে আধ্যাত্মিক শরণ