মার্গসঙ্গীতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দায়বদ্ধতা চান ব্রাত্য বসু
শাস্ত্রীয় সংগীত যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আধুনিকতার স্রোতে। অথচ এটাই তো ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম গর্ব! দমদমে পাঁচ বছর পূর্ণ করল ‘মার্গসঙ্গীত উৎসব’, যার মূল ভাবনায় আছেন শিক্ষামন্ত্রী তথা সংস্কৃতিপ্রেমী ব্রাত্য বসু। আর এই মঞ্চ থেকেই উঠে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— “আকবর না থাকলে কি তানসেনকে কেউ চিনত?”
শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এখন ‘সংখ্যালঘু’?
উৎসবের উদ্বোধনী ভাষণে ব্রাত্য বসু সাফ জানালেন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এখন একরকম সংখ্যালঘু অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছে। তার মতে, “এই শিল্প ধারা বাঁচিয়ে রাখতে হলে জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়বদ্ধ হতে হবে। শুধু শিল্পীর দক্ষতা নয়, প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতারও। ইতিহাসে নজর দিলে দেখা যাবে, আকবরের মতো সম্রাট না থাকলে তানসেন হয়তো এত বিখ্যাতই হতেন না।”
রবীন্দ্রনাথও অবহেলা করেননি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে
ব্রাত্যবাবুর বক্তব্যে উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ আধুনিক গানের প্রবক্তা হলেও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গুরুত্বকে এড়িয়ে যাননি। তিনি একে ভারতীয় সংস্কৃতির ধন হিসেবেই দেখেছিলেন।” এই ভাবনা থেকেই গত পাঁচ বছর ধরে ব্রাত্য নিজে এই উৎসবের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
সমাজ সুস্থ রাখতে দরকার সংস্কৃতির চর্চা
পুরপ্রতিনিধি তথা আয়োজক সুকান্ত সেনশর্মা জানান, “নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে। এই আয়োজন সেই প্রচেষ্টারই এক দৃষ্টান্ত। যত বেশি মানুষ সুস্থ সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসবেন, সমাজও ততই সুস্থ হবে।”
তারকা শিল্পীদের মঞ্চ মাতানো
১২ ও ১৩ এপ্রিল, দু’দিন ধরে দমদম রবীন্দ্র ভবনের ‘সুরের মাঠ’-এ চলেছে সঙ্গীত ও নৃত্যের সমাহার। শনিবার মঞ্চ কাঁপিয়েছেন উল্লাস কসলকর (কণ্ঠশিল্পী), পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায় (সেতার), রাকেশ চৌরাসিয়া (বাঁশি), রূপকুমার ও সোনালি রাঠৌর (কণ্ঠশিল্পী)। রবিবার হাজির ছিলেন সুজাতা মহাপাত্র (ওড়িশি নৃত্য), সংযুক্তা দাস (কণ্ঠ), মিতা নাগ (সেতার), দেবাশিস ভট্টাচার্য (চতুরঙ্গী), তন্ময় বোস (তবলা), অশ্বিনী ভিডে দেশপাণ্ডে (কণ্ঠশিল্পী), ও শিবমণি (ড্রামস— একক)।
উৎসব নয়, এক আন্দোলন
এই উৎসব শুধু বিনোদনের জন্য নয়—এ যেন এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে, এই ধরনের উদ্যোগ হয়ে উঠছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাত্য বসুর কথায়, “সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে তার জন্য সোচ্চার হতে হবে। জনপ্রতিনিধিরাও এর বাইরে নন।”
এই বার্তার সুর যেন কানে বাজতে থাকে—আকবরের অভাবে যেন আর কোনও তানসেন হারিয়ে না যান।