ধীরেন্দ্রের ছবি পোড়ানোয় কংগ্রেস নেতা গ্রেফতার, ‘জঙ্গি যোগ’-এর দাবি মামলাকারীর, ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজত

ধীরেন্দ্রের ছবি পোড়ানোয় কংগ্রেস নেতা গ্রেফতার! বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠাল আলিপুর আদালত। শুক্রবার তাঁকে…

September 11, 2026
1 min read

ধীরেন্দ্রের ছবি পোড়ানোয় কংগ্রেস নেতা গ্রেফতার!

বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠাল আলিপুর আদালত। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করেছিল পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের হেফাজত চাওয়া হলেও বিচারক ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ভবানীপুর থানার সামনে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের একাংশ। অভিযোগ, দুর্গাপুজোয় বাঙালিদের আমিষ খাওয়া নিয়ে ধীরেন্দ্রের মন্তব্যের প্রতিবাদেই ওই কর্মসূচি হয়েছিল। তার পরেই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে কলকাতার ক্ষেত্রমোহন নস্কর লেনের বাড়ি থেকে অতনুকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানার পুলিশ।

অভিযোগের ভিত্তিতে অতনু-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হেনস্থা, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, ধর্ম-জাতি-ভাষার ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টা এবং ঘৃণা ছড়ানোর মতো একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

‘প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার’, আদালতে অতনুর আইনজীবী

অতনুর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, কোনও ব্যক্তির বক্তব্যের প্রতিবাদ করা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। তাঁর বক্তব্য, ধীরেন্দ্রের সমর্থকদের ওই প্রতিবাদ খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু তার জন্য অতনুকে পুলিশ হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই।

আইনজীবীর প্রশ্ন, ঘটনার ভিডিয়ো দেখে অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করা যেতে পারে। তা হলে শুধু তাঁর মক্কেলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন কেন? গ্রেফতারির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাতে বাড়িতে গিয়ে অতনুকে গ্রেফতারের সময় দরজায় লাথি মারা হয়েছিল। পাশাপাশি, যে ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলিও প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

‘রাজ্যের সম্মান নষ্ট হয়েছে’, পাল্টা সওয়াল পুলিশের

সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল আদালতে বলেন, অভিযুক্তেরা পোস্টার পুড়িয়েছেন, জুতো মেরেছেন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য বা ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানতে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারি পক্ষের বক্তব্য, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বহু অনুসারী রয়েছেন। প্রকাশ্যে তাঁর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তাঁদের কাছে কী বার্তা গিয়েছে, সেটিও তদন্তের বিষয়। এই ঘটনার ফলে রাজ্যের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও আদালতে সওয়াল করা হয়।

‘জঙ্গি যোগ থাকতে পারে’, দাবি মামলাকারীর আইনজীবীর

অন্য দিকে, মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, ঘটনার পিছনে জঙ্গি সংগঠনের যোগ থাকার সম্ভাবনাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, অতীতের খাগড়াগড়ের মতো ঘটনায় বাইরে থেকে অর্থ আসার অভিযোগ সামনে এসেছিল। বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে কোনও জঙ্গি সংগঠন এই ঘটনায় অর্থ বা অন্য কোনও ভাবে যুক্ত কি না, তা তদন্ত ছাড়া জানা সম্ভব নয়।

তৃণমূল, কংগ্রেস বা সিপিএমের কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, পাশাপাশি কোনও জঙ্গি সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। তবে আদালতে ওঠা এই ‘জঙ্গি যোগ’-এর দাবি এখনও প্রমাণিত নয়।

অতনুর গ্রেফতারির প্রতিবাদ করেছে কংগ্রেস। সিপিএম এবং কালীঘাট তৃণমূলের নেতারাও গ্রেফতারির সমালোচনা করেছেন। অন্য দিকে, তৃণমূলের আর এক অংশ জানিয়েছে, ধীরেন্দ্রের মন্তব্যের বিরোধিতা করা হলেও আইন আইনের পথেই চলা উচিত। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত অতনুকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *