ধর্মতলায় আন্দোলনের নতুন অধ্যায়: এসআইআর ইস্যুতে ধর্নায় বসে আবার ‘আন্দোলনের মমতা’

এসআইআর ইস্যুতে ধর্নায় বসে আবার ‘আন্দোলনের মমতা’! রাজনীতির ময়দানে বারবারই তিনি বলেছেন—“আন্দোলনেই আমার জন্ম।” সেই পরিচিত লড়াইয়ের পথেই আবার ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি বেছে…

March 7, 2026
1 min read

এসআইআর ইস্যুতে ধর্নায় বসে আবার ‘আন্দোলনের মমতা’!

রাজনীতির ময়দানে বারবারই তিনি বলেছেন—“আন্দোলনেই আমার জন্ম।” সেই পরিচিত লড়াইয়ের পথেই আবার ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি বেছে নিয়েছেন তাঁর বহু পরীক্ষিত রাজনৈতিক অস্ত্র—ধর্মতলার ধর্না।

শুক্রবার থেকে কলকাতার Dharmatala Metro Channel-এ শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি অনেকের কাছেই ফিরিয়ে এনেছে পুরনো স্মৃতি। বিশেষ করে ২০০৬ সালের Singur Movement-এর সময় এখানেই ২৬ দিনের অনশন করেছিলেন মমতা। সেই আন্দোলনের আবহ যেন আবার নতুন করে ফিরে এসেছে মঞ্চে ও জনসমাগমে।

ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কবি Joy Goswami ও গায়ক-সঙ্গীতকার Kabir Suman। তাঁদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে সিঙ্গুর আন্দোলনের দিনগুলির স্মৃতি। সেই সময় মমতার পাশে থাকা প্রয়াত সাহিত্যিক Mahasweta Devi এবং গায়ক Pratul Mukhopadhyay-এর নামও স্মরণ করা হয়।

দু’দশক আগের আন্দোলনের সঙ্গে বর্তমানের সেতুবন্ধন ঘটালেন সিঙ্গুর থেকে আসা এক সমর্থকও। তাঁর কথায়, “সেই সময় জমির লড়াইয়ে দিদির পাশে ছিলাম। আজ ভোটাধিকারের প্রশ্নে আবার দাঁড়িয়েছি।”

শুক্রবার সকালে মেট্রো চ্যানেলে ভিড় ছিল উপচে পড়া। যদিও বিকেলের পর সেই ভিড় কিছুটা কমে। তবে তরুণ-তরুণী ও মহিলাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। আন্দোলনের প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়ে যায়—এই কর্মসূচি এক দিনের জন্য নয়। মমতা ঘোষণা করেছেন, শনিবার সকাল ১০টা থেকে আবার কর্মসূচি শুরু হবে। আগের মতোই মঞ্চে পর্দা টাঙিয়ে রাত কাটান তিনি।

ধর্মতলায় ধর্না মমতার কাছে নতুন কিছু নয়। এর আগে দু’বার তিনি এখানে আন্দোলনে বসে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন। সিঙ্গুর আন্দোলনের পর তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি জয় ইতিহাস হয়ে আছে। আবার ২০১৯ সালে সিবিআই-এর অভিযানের বিরুদ্ধে কলকাতার পুলিশ কমিশনার Rajeev Kumar-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে তিনি এখানেই ধর্নায় বসেছিলেন।

এইবারের আন্দোলনে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েও নিজেকে যেন এক অর্থে বিরোধী নেত্রী হিসেবেই তুলে ধরছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর ইস্যুতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ—সব মিলিয়ে উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে শাসক দল।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ Abhishek Banerjee। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট ও আসন—দুটোই বাড়বে। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বয়কট বিজেপি’ স্লোগানও দেন।

ধর্নামঞ্চে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থিতি ছিল আইনজীবী Menaka Guruswamy-র। সদ্য রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়া মেনকা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে, এবং এই বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও লড়াই হবে।

তবে কর্মসূচি পুরোপুরি বিতর্কহীন ছিল না। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কয়েকজন পার্শ্বশিক্ষক প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সব মিলিয়ে ধর্মতলার এই ধর্না শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়—অনেকের কাছে এটি আবার সেই পুরনো ‘আন্দোলনের মমতা’-কে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত রাজনীতির ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *