দেনার বোঝা নামাতে যুদ্ধবিমানের বাজি!
ঋণের ভারে কার্যত নুয়ে পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। সরকারি হিসাব বলছে, গত অর্থবর্ষের তুলনায় দেশের মোট ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার তলানিতে, কোষাগার প্রায় ফাঁকা। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি টাকা শোধ করার ক্ষমতা নেই ইসলামাবাদের। তাই ঋণ শোধের বিকল্প রাস্তা খুঁজছে তারা— আর সেই রাস্তায় এখন ভরসা সামরিক চুক্তি।
পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ‘ঋণ মেটানোর হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই কৌশলের প্রথম বড় ধাপ হতে চলেছে সৌদি আরব। প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সৌদি ঋণ নগদে ফেরত না দিয়ে, তার বদলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ।
সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তান-চিন যৌথ উদ্যোগে তৈরি যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডলারের বদলে সৌদি সেনাবাহিনীকে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে পাকিস্তান। অর্থাৎ, ঋণ শোধ হবে অস্ত্রের মাধ্যমে। শুধু তাই নয়, ঋণ মেটানোর পর অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম কেনার কথাও ভাবছে রিয়াধ। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির অঙ্ক ৪০০ কোটি ডলার ছুঁতে পারে বলে ধারণা।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিয়াধে দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ ও সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন-এর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবিও তখন আলোচনায় আসে। তার পর থেকেই সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে।
এই চুক্তির নেপথ্যে শুধু পাকিস্তানের আর্থিক সংকট নয়, সৌদি আরবেরও নিজস্ব কৌশল রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত এবং মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা কমে যাওয়া— সব মিলিয়ে রিয়াধ চাইছে নিজের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে। সেই পথে পরমাণু শক্তিধর ও বড় সেনাবাহিনী থাকা পাকিস্তান তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ‘বন্ধু’।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বহু দিন ধরেই সৌদি আরবকে প্রশিক্ষণ ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে এসেছে। বদলে আর্থিক সঙ্কটের সময়ে বারবার সৌদি সাহায্য পেয়েছে ইসলামাবাদ। তবে এ বার সম্পর্কের সমীকরণ আরও স্পষ্ট— টাকা নয়, অস্ত্রের বিনিময়ে ঋণ শোধ।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। পুরনো যুদ্ধবিমানের ডানায় ভর করে কি সত্যিই ঋণের নাগপাশ থেকে বেরোতে পারবে পাকিস্তান? না কি সাময়িক স্বস্তির বদলে ভবিষ্যতে আরও গভীর কৌশলগত নির্ভরতায় জড়াবে দেশটি? আপাতত ইসলামাবাদের সামনে বিকল্প কম, আর সেই কারণেই সামরিক চুক্তিই হয়ে উঠছে তাদের অর্থনৈতিক লাইফলাইন।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি