দুধ বিক্রেতা থেকে সেনার লেফটেন্যান্ট: করিশ্মা ঠাকুরের প্রেরণাদায়ক যাত্রা

দুধ বিক্রেতা থেকে সেনার লেফটেন্যান্ট হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার কোঠি গইরি গ্রামের মেয়ে করিশ্মা ঠাকুর আজ গোটা দেশের জন্য এক প্রেরণার নাম। কঠিন পরিস্থিতি, আর্থিক অনটন, এবং অগণিত বাধাকে পেরিয়ে…

November 19, 2024
1 min read

দুধ বিক্রেতা থেকে সেনার লেফটেন্যান্ট

হিমাচল প্রদেশের মান্ডি জেলার কোঠি গইরি গ্রামের মেয়ে করিশ্মা ঠাকুর আজ গোটা দেশের জন্য এক প্রেরণার নাম। কঠিন পরিস্থিতি, আর্থিক অনটন, এবং অগণিত বাধাকে পেরিয়ে তিনি অর্জন করেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট হওয়ার গৌরব। তাঁর গল্প শুধুমাত্র লড়াই নয়, এক অদম্য ইচ্ছাশক্তির সাক্ষ্য।

করিশ্মার জীবন শুরু হয়েছিল অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবারের মধ্যে। তাঁর বাবা, ললিত শর্মা, ছিলেন পরিবারের প্রধান স্তম্ভ। ২০১৭ সালে তাঁর অকালমৃত্যুতে পুরো পরিবার গভীর সংকটে পড়ে। পাঁচ ভাইবোন এবং মাকে নিয়ে শর্মা পরিবারের দায়িত্ব গিয়ে পড়ে করিশ্মার মা দ্রুমতী দেবীর ওপর। কঠিন আর্থিক অবস্থায় তিনি পরিবারের খরচ চালানোর জন্য শুরু করেন গরুর দুধ বিক্রি এবং পাশাপাশি কাজ নেন মনরেগা প্রকল্পে। করিশ্মা এবং তাঁর ভাইবোনেরা মাকে সাহায্য করতেন, পাশাপাশি চালিয়ে যেতেন নিজেদের পড়াশোনা।

সেনাবাহিনীর স্বপ্নের পথে

করিশ্মা ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন সেনাবাহিনীতে কাজ করার। কিন্তু বাবার মৃত্যু যেন সেই স্বপ্নকে কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। তিনি হাল ছাড়েননি। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে মান্ডির বল্লভ সরকারি কলেজ থেকে কলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি, তিনি এনসিসি-তে (ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস) যোগ দেন। এখানেই তিনি তাঁর অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন এবং পুরস্কৃত হন।

সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার জন্য করিশ্মা মান্ডিতে গিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। গত এক বছর ধরে তিনি কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে গড়ে তোলেন। অবশেষে তাঁর সেই চেষ্টা সফল হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত সেনাবাহিনীর পরীক্ষার ফলাফলে নিজের নাম দেখে তিনি আবেগে ভেঙে পড়েন।

একটি গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায়ে

করিশ্মার সফলতা শুধু তাঁর নয়, পুরো গ্রামের গর্ব। তাঁর গল্প প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে যে কোনো বাধা পেরোনো সম্ভব। করিশ্মা বলেন, “আমার মা আমাদের পড়াশোনা চালানোর জন্য দিনরাত খেটেছেন। আমি কোনোদিন আমার স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দিইনি। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।”

ডিসেম্বর মাসে করিশ্মা চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে যোগ দেবেন। এই পদক্ষেপ তাঁর জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তাঁর এই সাফল্য শুধু হিমাচল প্রদেশ নয়, পুরো দেশের যুব সমাজের কাছে এক দৃষ্টান্ত।

অনুপ্রেরণার নাম করিশ্মা

অর্থাভাবের কারণে যেখানে অনেকেই নিজেদের স্বপ্নকে বিসর্জন দেন, করিশ্মা ঠাকুর তার ব্যতিক্রম। কঠিন পরিস্থিতিকে জয় করে তিনি দেখিয়েছেন, জীবনকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের হাতেই রয়েছে। তাঁর এই যাত্রা কেবল একটি গল্প নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ।

করিশ্মার গল্প মনে করিয়ে দেয়, প্রত্যেকের জীবনে চ্যালেঞ্জ আসবে, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার সাহস এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *