কে ছিলেন ‘এল মেঞ্চো’?
মেক্সিকোর অপরাধজগতের এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের ইতি ঘটল রবিবার। দীর্ঘদিন ধরেই যার মাথার দাম ছিল কোটি কোটি টাকা, সেই কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড এল মেঞ্চো অবশেষে নিহত হয়েছেন সেনা অভিযানে। তাঁর আসল নাম ছিল নেমেসিয়ো রুবেন ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস।
মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম মেক্সিকোর তাপালপা শহরে সামরিক অভিযানের সময় তাঁকে খতম করা হয়। এই অভিযান চালাতে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল মার্কিন সংস্থাগুলি।
🔶 একসময় ছিলেন পুলিশের দুঁদে অফিসার
আজ যিনি বিশ্বজোড়া অপরাধের প্রতীক, তাঁর শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। যুবক বয়সে তিনি মেক্সিকোর পুলিশ বাহিনীর একজন দক্ষ অফিসার ছিলেন। অপরাধীদের কাছে তাঁর নাম ছিল আতঙ্কের।
কিন্তু নব্বইয়ের দশকে তিনি নিজেই অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় মাদকপাচার। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের একজন।
🔶 ভয়ংকর কার্টেলের প্রতিষ্ঠাতা
মেঞ্চো ছিলেন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল বা সিজেএনজি-র প্রধান। তাঁর নেতৃত্বে এই সংগঠন দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং মেক্সিকোর অন্যতম নির্মম অপরাধচক্রে পরিণত হয়।
এই কার্টেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ—
- কোকেন, মেথ ও ফেন্টানাইল পাচার
- খুন ও তোলাবাজি
- মানবপাচার
- অস্ত্র চোরাচালান
মেঞ্চোর প্রভাব শুধু অপরাধজগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না— রাজনীতি ও প্রশাসনের নানা স্তরেও তাঁর ছায়া পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
🔶 আমেরিকার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায়
মেঞ্চো আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত হয়ে ওঠেন যখন মার্কিন গোয়েন্দারা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক মাদক সম্রাটদের একজন বলে ঘোষণা করেছিল।
তাঁর মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল প্রায় ১.৫ কোটি ডলার— ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা।
🔶 মৃত্যুর পরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি
মেঞ্চোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিম মেক্সিকোর একাধিক শহরে অশান্তি শুরু হয়। তাঁর কার্টেলের সদস্যরা রাস্তা অবরোধ করে, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা— এই হত্যাকাণ্ডের পর আরও হিংসা ছড়াতে পারে। অতীতে এল চ্যাপো-র মতো কুখ্যাত কার্টেল নেতাদের গ্রেফতারির পরেও একই ধরনের অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল।
🔶 এক বিতর্কিত উত্তরাধিকার
মেঞ্চোর জীবনের গল্প এক অদ্ভুত বৈপরীত্যে ভরা— একজন পুলিশ অফিসার থেকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ড্রাগ লর্ড হয়ে ওঠা।
তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের শেষ হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে মেক্সিকোর মাদকযুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং ক্ষমতার লড়াই আরও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতে পারে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই