শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার শিকার অভিনেত্রী সারা খান!
হিন্দি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ, ‘বিগ বস’ খ্যাত অভিনেত্রী সারা খান সম্প্রতি এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। দিল্লিতে একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নিতে গিয়ে মারাত্মক হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। নিজের সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একেবারে চোখ ছলছল করে উঠেছে অভিনেত্রীর।
বিগত ১৮ বছর ধরে বিনোদন দুনিয়ায় কাজ করছেন সারা। জনপ্রিয় একাধিক ধারাবাহিক, রিয়্যালিটি শো থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তিনি বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন। তবে এবার আলোচনায় এলেন একেবারে অন্য কারণে।
সারার অভিযোগ, গত ২ আগস্ট দিল্লিতে একটি ফ্যাশন ইভেন্টে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আয়োজক সংস্থার তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে তাঁর থাকার, যাতায়াত এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তারা নেবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি হয় ঠিক উল্টো।
তিনি বলেন, “আমি দিল্লি শহরকে বরাবরই ভালবাসি। শহরটাও আমাকে সব সময় আপন করে নিয়েছে। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা আমি কোনও দিন ভুলতে পারব না।”
হোটেল বদল, অন্ধকার ঘর এবং অনিরাপত্তার ভয়
সারা জানান, শেষ মুহূর্তে আয়োজকেরা বিনা নোটিশে তাঁর থাকার হোটেল বদলে দেন। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এক অজানা, ছায়াচ্ছন্ন, জৌলুসহীন হোটেলে। তিনি বলেন, “ঘরটা দেখে গায়ের লোম খাড়া হয়ে গিয়েছিল। সেখানে কোনও স্টাফের দেখা নেই, না ছিল নিরাপত্তা বা সাহায্যের ব্যবস্থা।”
একটি মাত্র গাড়ি রাখা ছিল তাঁর চলাফেরার জন্য। কিন্তু যখন তিনি সেই গাড়িতে উঠতে অস্বীকার করেন, তখন আয়োজকদের এক সদস্য তাঁর টিমকে হুমকি দেন। সাফ বলেন, ফিরতি বিমান নিজেকে কেটে নিতে হবে, নিরাপত্তার দায়িত্বও সারা ও তাঁর টিমের নিজস্ব ব্যাপার। এমনকি দলের কয়েকজনকে অকথ্য কথা বলা হয়, দাবি করেন সারা।
শারীরিক এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ
এই অভিজ্ঞতা শুধু মানসিকভাবে নয়, শারীরিকভাবেও তাঁকে ভেঙে দেয়। অভিনেত্রীর বক্তব্য, “ওরা ন্যূনতম সম্মানটুকুও দেয়নি। বরং এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল যে আমি আতঙ্কে কাঁপছিলাম। এটা নিছক অব্যবস্থা নয়, এটা ছিল অপমান এবং হেনস্থার পরাকাষ্ঠা।”
তিনি আরও বলেন, “প্রায় দুই দশক ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি, কিন্তু এমন অবমাননাকর এবং অনিরাপদ পরিস্থিতিতে কখনও পড়িনি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ
এই ঘটনার পর সারা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বিষয়টি শেয়ার করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভবিষ্যতে যেকোনও ইভেন্টে অংশগ্রহণের আগে তিনি আয়োজকদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোভাবে যাচাই করবেন। একই সঙ্গে, নতুন শিল্পীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন, যেন তাঁরা নিরাপত্তার বিষয়ে কখনও আপস না করেন।
সারার অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিল, বিনোদন জগৎ যতই চকমকে হোক, এর অন্ধকার দিকটা আজও থেকে গেছে ভয়ংকর আর অমানবিক। অভিনেত্রীর সাহসিকতা প্রশংসার দাবি রাখে—তিনি মুখ খুলেছেন, অন্যদের সচেতন করার জন্য।
দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র