দিল্লির অভিজাত জিমখানা ক্লাব ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে!
দিল্লির অভিজাত মহলে জিমখানা ক্লাবের নাম যেন এক আলাদা পরিচয় বহন করে। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ক্লাব শুধু আভিজাত্যের প্রতীকই নয়, বরং ভারতের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ইতিহাসেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ১১৩ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এখন উচ্ছেদের নোটিস এবং দুর্নীতির অভিযোগে নতুন করে শিরোনামে।
১৯১৩ সালে “ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব” নামে যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্লাবটির। ১৯৩০-এর দশকে তৈরি হয় বর্তমান ভবন, যার নকশা করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট টি রাসেল। দিল্লির কনট প্লেসের নকশাও তাঁরই সৃষ্টি। ব্রিটিশ আমলে এই ক্লাব ছিল ইংরেজ আধিকারিকদের আড্ডা, বৈঠক ও বিনোদনের জায়গা। যদিও সেই সময় ভারতীয়দের মূল ভবনে প্রবেশের অনুমতি ছিল না।
স্বাধীনতার পর ক্লাবের নাম বদলে হয় “দিল্লি জিমখানা ক্লাব”। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্লাব ভারতীয় আমলা, সেনা আধিকারিক, শিল্পপতি, রাজনীতিক এবং উচ্চবিত্তদের অন্যতম সামাজিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এখনও সদস্যপদ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সদস্য হওয়ার জন্য ৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও শুধু অর্থ থাকলেই সদস্য হওয়া যায় না। বর্তমানে অপেক্ষমাণ তালিকা প্রায় ৩৭ বছরের। প্রতি বছর মাত্র ৬০ থেকে ৯০ জন নতুন সদস্য জায়গা পান।
লুটিয়েন্স দিল্লির হৃদয়ে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছেই ২৭.৩ একর জমি জুড়ে রয়েছে এই ক্লাব। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনেই এই জমি দরকার। সেই কারণে আগামী ৫ জুনের মধ্যে ক্লাব খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রের ভূমি ও উন্নয়ন দফতর (এল অ্যান্ড ডিও)।
সরকারের বক্তব্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ওই জমি জনস্বার্থে ব্যবহার করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনারও আবেদন জানিয়েছে তারা।
এই ঘটনার জেরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন ক্লাবের প্রায় ৬০০ কর্মী। তাঁদের অনেকেই ২০ থেকে ৪০ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। আচমকা উচ্ছেদের নোটিসে চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা।
অন্য দিকে, জিমখানা ক্লাবকে ঘিরে অতীতেও উঠেছে একাধিক বিতর্ক। ২০২২ সালে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের পরিদর্শনে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিয়োগ এবং প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছিল ক্লাবের বিরুদ্ধে।
ক্লাবটির বিপুল সম্পত্তিও এখন আলোচনায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ক্লাবের মোট বিনিয়োগ ১৬২ কোটির বেশি এবং সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২৯ কোটি টাকা। রেস্তরাঁ, বার এবং ব্যাঙ্কোয়েট থেকেই বছরে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
ঐতিহ্য, আভিজাত্য, রাজনীতি, সম্পত্তি ও বিতর্ক— সব মিলিয়ে দিল্লির জিমখানা ক্লাব এখন দেশের অন্যতম চর্চিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা