দিল্লির পথে চাকরিহারারা!
রাজ্যজুড়ে চাকরি হারানো হাজার হাজার প্রার্থী আবারও বড় আন্দোলনের পথে। এবার তাদের গন্তব্য—দিল্লি। আসন্ন বুধবার যন্তরমন্তরে ধর্নায় বসবেন এই প্রার্থীদের একাংশ। আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে সোমবারই তাঁরা বাসে রওনা দিচ্ছেন রাজধানীর উদ্দেশে। শুধু তাই নয়, বাস যে সমস্ত রাজ্যের উপর দিয়ে যাবে, সেখানে লিফলেট বিলি করে চাকরিচ্যুতির বাস্তব পরিস্থিতি ও ক্ষোভ তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছেন তাঁরা।
‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী ২০১৬ ঐক্যমঞ্চ’ নামক সংগঠন এই আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা। রবিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের তরফে চিন্ময় মণ্ডল জানান, “আমরা ন্যায়বিচার চাই। এই লড়াই শুধু নিজেদের চাকরির জন্য নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্যও।” তিনি সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সাহায্য ও সমর্থনের আবেদন জানান।
ধর্মতলার আন্দোলন থেকে দিল্লির রাজপথে
গত কয়েক মাস ধরেই ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে চলছিল চাকরিহারাদের অবস্থান। এর আগে তারা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বসেছিলেন, কিন্তু শনিবার রাতে পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। তবে আন্দোলন থেমে থাকেনি। নতুন কর্মসূচি নিয়ে এখন তাঁরা আরও প্রস্তুত। ওয়াই চ্যানেলে বসানো হয়েছে একটি পরামর্শ বাক্স, যেখানে প্রতিটি চাকরিহারা তাঁদের ভবিষ্যতের আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে মতামত দিচ্ছেন।
আন্দোলনের একাধিক ধাপ
চলতি সপ্তাহেই একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঐক্যমঞ্চ:
- মঙ্গলবার (পয়লা বৈশাখ): বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনাসভা
- বৃহস্পতিবার: যারা এখনও স্কুলে যাচ্ছেন, তারা বিশেষ ব্যাজ পরে কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ
- ২২ এপ্রিল: রাজভবন অভিযান। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল, তারপর রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চাওয়া হবে
- ১ মে – ৭ মে: রিলে অনশন
- ৭ মে-র পর: শুরু হতে পারে আমরণ অনশন
সল্টলেকেও চলছে প্রতিবাদ
শহরের অন্য প্রান্তে, সল্টলেকে আরও তিন জন চাকরিহারা – সুমন বিশ্বাস, প্রতাপ রানা এবং পঙ্কজ রায় – বৃহস্পতিবার থেকে অনশন শুরু করেছিলেন। কিন্তু শনিবার সুমন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় তাঁরা আপাতত অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তবে ভবিষ্যতের লড়াই কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
বিতর্ক ও রাজনৈতিক ছায়া
এই আন্দোলনকে ঘিরে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্কও। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, অনশনকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের যোগ রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা তা অস্বীকার করেছেন। ওয়াই চ্যানেলে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের কেউ অনশনে নেই এবং তাঁদের আন্দোলন একেবারে অরাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক।
রাজ্যজুড়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে চাকরি হারানো প্রার্থীদের এই বিশাল পদক্ষেপে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। দিল্লির পথে তাঁদের যাত্রা এবার ঠিক কতটা ফলপ্রসূ হবে, সে দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদ, আর ইউসুফ পঠান ‘ফুরফুরে চা’-এ মশগুল! ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা