দিল্লিতে ‘জনগণের আইনজীবী’ মমতা!
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। আর সেই শুনানিকে ঘিরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল—কারণ আদালতে উপস্থিত থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, শীর্ষ আদালতে তাঁর প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ও গেট পাস ইতিমধ্যেই ইস্যু করা হয়েছে। অর্থাৎ, দিল্লিতে একেবারে অন্য রূপে দেখা যেতে চলেছে ‘দিদি’-কে—আইনি লড়াইয়ের ময়দানে।
আইন সংক্রান্ত খবর পরিবেশনকারী পোর্টাল ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ জানিয়েছে, বুধবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নামে সুপ্রিম কোর্টের গেট পাস জারি করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসও সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে সেই ইঙ্গিত আরও জোরালো করেছে। পোস্টে নীল পাড়-সাদা শাড়ির সঙ্গে কালো কোট পরা মমতার একটি গ্রাফিক প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। ক্যাপশনে লেখা—“জনগণের আইনজীবী বনাম শয়তানের আইনজীবী”—যা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনের করা মামলাটি রয়েছে এক নম্বর কোর্টের শুনানির তালিকায় ২১ নম্বরে। একই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাটি রয়েছে ৩৭ নম্বরে। কবি জয় গোস্বামীর একটি মামলাও রয়েছে ওই তালিকায়, ৩৬ নম্বরে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব মমতা। নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। দিল্লিতে থাকাকালীন সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে ‘উদ্ধত আচরণ ও দুর্ব্যবহার’-এর অভিযোগ তুলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসআইআর-এ প্রভাবিত কয়েকটি পরিবারের সদস্যরাও।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইতিমধ্যেই ছ’টি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা। এমনকি সাম্প্রতিক বৈঠকের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগেও তিনি ফের একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইনের বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে উপেক্ষা করে এসআইআর চাপিয়ে দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে বুধবারের শুনানি শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপড়েনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কতটা প্রভাব ফেলবে, সে দিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই