দিল্লিতে চালু হলো ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’: মহিলাদের সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ

দিল্লিতে চালু হলো ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’! উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’ এবার রাজধানী দিল্লিতেও চালু করা হলো। মহিলাদের উপর অত্যাচার, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি রোধে দিল্লি সরকার নতুনভাবে…

March 18, 2025
1 min read

দিল্লিতে চালু হলো ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’!

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’ এবার রাজধানী দিল্লিতেও চালু করা হলো। মহিলাদের উপর অত্যাচার, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি রোধে দিল্লি সরকার নতুনভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানী জুড়ে ৩০টি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে, যারা ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’-এর আদলে কাজ করবে। এই স্কোয়াডের আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিষ্টাচার’।

দিল্লিতে কেন ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’?

দিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর শহর হিসেবে পরিচিত। প্রায়শই ইভটিজিং, যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা সামনে আসে। বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহারেই বিজেপি সরকার মহিলা সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর রেখা গুপ্তের সরকার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

কীভাবে কাজ করবে ‘শিষ্টাচার’ স্কোয়াড?

✔ মহিলা ও পুরুষ পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল
✔ অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত টহল
✔ সাধারণ পোশাকে এবং ইউনিফর্মে পুলিশের উপস্থিতি
✔ অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া
✔ নারী সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করা

এই বিশেষ স্কোয়াডের সদস্যরা শুধু পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যরূপে থাকবেন না, বরং অনেকেই সাধারণ মানুষের মতো ভিড়ে মিশে অপরাধীদের নজরে রাখবেন। এতে অপরাধীদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

কোন কোন এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে?

দিল্লির সেইসব এলাকাগুলিতে এই স্কোয়াডের নজরদারি থাকবে, যেখানে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের হার তুলনামূলক বেশি। যেমন—

🔹 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ
🔹 মহিলা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর
🔹 বাসস্ট্যান্ড ও মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকা
🔹 বাজার ও শপিং মল চত্বর
🔹 পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র

অভিযোগ পেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

এই স্কোয়াডের প্রধান কাজ শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানো। কোনো মহিলা যদি হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের শিকার হন, তবে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নেবে এই বিশেষ দল। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সঙ্গে নজরদারি জোরদার করা হবে।

‘নৈতিক পুলিশিং’ নয়, আইনের সঠিক প্রয়োগ

‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’ নিয়ে অতীতে বিতর্ক হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশ নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার নামে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই স্কোয়াড কোনোভাবেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সাংস্কৃতিক নৈতিকতা নিয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। তারা শুধুমাত্র অপরাধ দমন ও আইন প্রয়োগের উপর জোর দেবে।

স্কোয়াডের তত্ত্বাবধান ও পরবর্তী পরিকল্পনা

✔ প্রত্যেক জেলায় অন্তত ২টি করে ‘শিষ্টাচার স্কোয়াড’ থাকবে
✔ প্রতিটি দলে থাকবেন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য
✔ এই স্কোয়াডের তত্ত্বাবধানে থাকবেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মহিলা অপরাধ দমন শাখা)
✔ পরবর্তী ধাপে আরও বেশি স্কোয়াড গঠন করা হবে

নারী সুরক্ষার নতুন দিগন্ত

দিল্লিতে ‘অ্যান্টি রোমিয়ো স্কোয়াড’ চালুর মাধ্যমে মহিলা নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে। সরকারের দাবি, এর ফলে নারীরা নিজেদের আরও নিরাপদ অনুভব করবেন এবং অপরাধীরা সতর্ক হবে।

এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং নারীদের জন্য সত্যিই একটা সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করতে পারে কিনা।

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের উদ্বেগ, ইউনূস প্রশাসনের কড়া প্রতিক্রিয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *