দিনে পার্লার মালকিন, রাতে ‘ম্যাডাম জ়হর’!
রাজধানী দিল্লিতে অপরাধজগতের এক চমকপ্রদ অধ্যায় সামনে এল সম্প্রতি। দিনে সাধারণ বিউটি পার্লারের মালকিন— আর রাতে কুখ্যাত অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য! এই দ্বৈত জীবনযাপনের অভিযোগেই শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হলেন তথাকথিত ‘লেডি ডন’ খুসনুমা আনসারি ওরফে নেহা, যিনি অপরাধ জগতে পরিচিত ছিলেন ‘ম্যাডাম জ়হর’ নামে। তাঁকে গ্রেফতার করেছে Delhi Police-এর স্পেশ্যাল সেল।
কী অভিযোগ নেহার বিরুদ্ধে?
পুলিশের দাবি, নেহা কুখ্যাত Lawrence Bishnoi গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন। শুধু তাই নয়, অস্ত্র সরবরাহ ও অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে।
নেহার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী মহফুজ় ওরফে ববি কবুতর— যিনি একজন দক্ষ শার্পশুটার হিসেবে পরিচিত। তদন্তকারীদের মতে, ববির হাত ধরেই অপরাধ জগতে উত্থান ঘটে নেহার।
‘পার্লারের আড়ালে অপরাধচক্র’
সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হল— নেহার বিউটি পার্লারটিই ছিল অপরাধচক্রের গোপন ঘাঁটি। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে অবস্থিত সেই পার্লারের আড়ালেই পরিচালিত হত মাদক ব্যবসা, অস্ত্র লেনদেন এবং গ্যাংয়ের যোগাযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেহা দিনে স্বাভাবিক ব্যবসায়ী হিসেবে জীবনযাপন করলেও রাত নামলেই তিনি হয়ে উঠতেন ‘ম্যাডাম জ়হর’— যিনি গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কার্যকলাপের পরিকল্পনা ও সমন্বয় করতেন।
বড় অপরাধের সঙ্গে যোগ?
তদন্তকারীরা মনে করছেন, ববি ও তাঁর নেটওয়ার্ক থেকে সরবরাহ হওয়া অস্ত্র একাধিক হাই-প্রোফাইল অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পঞ্জাবি গায়ক Sidhu Moose Wala হত্যাকাণ্ডসহ আরও কয়েকটি আলোচিত ঘটনা।
বাড়ছে মহিলা গ্যাংস্টারদের ভূমিকা
পুলিশের পর্যবেক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে— অপরাধ জগতে মহিলা সদস্যদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। নেহার আগে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকজন মহিলা গ্যাং সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন।
তদন্তকারীদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা শুধু সহযোগী নন, বরং পরিকল্পনা, অর্থ লেনদেন ও নেটওয়ার্ক পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা নিচ্ছেন।
কী ভাবে ধরা পড়লেন?
গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত নজরদারির ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ববি ও নেহা একটি এসইউভিতে যাতায়াত করছেন। মহিপালপুর ফ্লাইওভারের কাছে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এখন কী চলছে?
বর্তমানে দু’জনকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে—
- মাদকচক্রের আর্থিক লেনদেন
- অস্ত্র সরবরাহের উৎস
- গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয়
—এই সব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারী দল।
শেষ কথা
নেহার গ্রেফতারি শুধু একটি অপরাধের ঘটনা নয়— এটি অপরাধজগতের বদলে যাওয়া বাস্তবতারও ইঙ্গিত। দিনের আলোয় সাধারণ জীবন আর রাতের অন্ধকারে ভয়ঙ্কর অপরাধ— ‘ম্যাডাম জ়হর’-এর গল্প যেন বাস্তবের এক থ্রিলার, যা এখন তদন্তের আলোয় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই