দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ, ওড়িশার আর্জি মেনে নতুন নাম ঘোষণা শুভেন্দুর

দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ! দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘ধাম’ শব্দ। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওড়িশার…

June 10, 2026
1 min read

দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ!

দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘ধাম’ শব্দ। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির অনুরোধকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’, আর মন্দিরটি পরিচিত হবে ‘শ্রী জগন্নাথ দেব মন্দির’ নামে।

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন পুরীর বিজেপি সাংসদ Sambit Patra। তিনি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দূত হিসেবে এসে একটি চিঠি তুলে দেন। সেই চিঠিতে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে ওড়িশার আপত্তির কথা জানানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্মের প্রচলিত পরম্পরায় ‘ধাম’ শব্দের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই বিতর্ক এড়িয়ে মন্দির কমপ্লেক্সের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে।

দিঘার মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও ট্রাস্টি রাধারমণ দাসও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মন্দিরের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ায় ভক্তদের মধ্যেও বিভ্রান্তি কমবে।

আসলে দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওড়িশার বহু ধর্মীয় সংগঠন এবং জগন্নাথ ভক্তদের একাংশের দাবি ছিল, সনাতন ঐতিহ্য অনুযায়ী ‘জগন্নাথ ধাম’ বলতে মূলত পুরীর Jagannath Temple-কেই বোঝানো হয়। কারণ, আদি শঙ্করাচার্যের নির্ধারিত চার ধামের অন্যতম হল পুরী।

তবে এই বিতর্কের অন্য দিকও রয়েছে। অনেকের মতে, ‘ধাম’ শব্দের অর্থ শুধু তীর্থক্ষেত্র নয়, কোনও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র বা ধর্মীয় আবাসও হতে পারে। তাই দিঘার মন্দিরকে ‘ধাম’ বলার মধ্যে ভুল কিছু নেই। কিন্তু এই তর্ক বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

নতুন ঘোষণার পর সেই বিতর্ক অনেকটাই স্তিমিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মন্দিরে সমস্ত পুজো-পার্বণ জগন্নাথ সংস্কৃতি ও শাস্ত্রসম্মত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে। প্রসাদ বিতরণ, ট্রাস্ট পরিচালনা এবং মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কেও শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ফলে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে যে নাম-বিতর্ক এতদিন ধরে চলছিল, তা আপাতত অতীত হতে চলেছে। নতুন পরিচয়ে মন্দির এখন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে প্রস্তুত।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *