দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কেন ‘ধাম’ বলা হবে?
দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির নিয়ে চলা বিতর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা (PIL) প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
🕉️ কেন উঠেছিল আপত্তি?
গত জুলাই মাসে VHP প্রশ্ন তোলে — কেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে “ধাম” বলা হচ্ছে? সংগঠনের দাবি ছিল, “ধাম” শব্দটি ঐতিহ্যগতভাবে চারধাম — বদরীনাথ, দ্বারকা, রামেশ্বরম এবং পুরী — এই চারটি পবিত্র স্থানের জন্য সংরক্ষিত। তাই দিঘার মন্দিরকে “ধাম” বলা ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিকৃতি এবং ভারতের সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ ওঠে।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| মামলা দায়েরকারী | বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) |
| আপত্তির কারণ | দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে “ধাম” বলা |
| মামলার ফলাফল | PIL প্রত্যাহার |
| আদালত | কলকাতা হাই কোর্ট |
| বিচারপতি | ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল |
⚖️ আদালতে কী ঘটল?
কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। একাধিকবার শুনানি স্থগিতের পর, মঙ্গলবার VHP আদালতকে জানায় যে তারা মামলা প্রত্যাহার করতে চায়। আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করে, তবে উল্লেখ করে— ভবিষ্যতে প্রয়োজনে নতুন করে মামলা দায়ের করা যেতে পারে।
এই রায়ের ফলে আপাতত ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থেমে গেলেও, বিষয়টি যে পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি, তা বলাই বাহুল্য।
🌊 দিঘা জগন্নাথধাম নিয়ে বিতর্ক
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করেন দিঘার জগন্নাথধাম। উদ্বোধনের পর থেকেই প্রকল্পটি ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। শুধু “ধাম” শব্দ নয়, মন্দিরের ‘মহাপ্রসাদ’ নামেও আপত্তি ওঠে।
অন্যদিকে, ওড়িশা সরকার এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ “জগন্নাথধাম” নাম এবং পুরীর মন্দিরের আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতির কপিরাইট সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকারি তথ্যের জন্য ভিজিট করুন Odisha.gov.in বা Jagannath.nic.in।
📰 সম্পর্কিত খবর (Internal Links)
- 🟡 পশ্চিমবঙ্গে ফের শুরু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজ, আদালতের রায়ের পর জব কার্ড হোল্ডারদের তথ্য আপডেটের তৎপরতা নবান্নের
- ⚫ ‘আতঙ্কে’ একের পর এক মৃত্যু! বিধানসভার আগামী অধিবেশনে এসআইআরের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনতে পারে তৃণমূল
📌 সারসংক্ষেপ
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ‘ধাম’ বলা নিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে VHP আপাতত পিছু হটলেও, ধর্মীয় মর্যাদা ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়।
পুরীর ঐতিহ্য রক্ষা বনাম দিঘার নতুন ধর্মীয় পরিচিতি — এই tug of tradition আগামী দিনে আরও নতুন প্রশ্নের জন্ম দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।