দশ টাকায় পেটভরে খাওয়া!
জীবনযাত্রার খরচ যখন প্রতিদিনই বাড়ছে, তখনও দেশের কিছু প্রান্তে একবেলা খেতে মাত্র ১০ টাকাই যথেষ্ট। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। এই দেশের বহু কোণে কিছু মানবিক উদ্যোগ, কিছু সংগঠনের অসাধারণ প্রচেষ্টা আর কিছু প্রশাসনিক সদিচ্ছা মিলে গড়ে উঠেছে এমনই কিছু স্বল্পমূল্যের খাবারের কেন্দ্র, যেখানে মাত্র ৫ বা ১০ টাকায় মানুষ পাচ্ছেন পেটপুরে খাবার।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ় কিংবা ওড়িশা— নানা রাজ্যে এই ধরনের প্রকল্প আজ দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের বাঁচার রসদ জোগাচ্ছে। এমনই একটি প্রকল্প কলকাতায় চালু করেছিল রাজ্য সরকার— ‘মা ক্যান্টিন’। মাত্র ৫ টাকায় এখানে দেওয়া হয় ভাত, ডাল, তরকারি ও ডিম বা সয়াবিনের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ক্যান্টিন বহু মানুষকে রোজ দুপুরে নির্ভরতার স্বাদ দিয়েছে।
রাজস্থানে চালু হয়েছে ‘ইন্দিরা রসুই’। মাত্র ৮ টাকায় এখানেও মিলছে গরম গরম ভাত, রুটি, তরকারি, ডাল— সব কিছুই পুষ্টিকর ও পরিষ্কারভাবে পরিবেশিত। লক্ষ্য একটাই— কোনও মানুষ যেন খিদে নিয়ে রাস্তায় না ঘোরেন।
মহারাষ্ট্রে শুরু হয়েছিল ‘শিব ভোজ থালি’ প্রকল্প। নামমাত্র মূল্যে দরিদ্রদের জন্য চালু হয়েছিল এই পরিষেবা, যা বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং ক্রমে অন্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
তামিলনাড়ুতে চালু রয়েছে ‘অম্মা ক্যান্টিন’। এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা। ৫ টাকার কমে এখানে মিলছে ইডলি, সাম্বর, ভাত, কারি— যা দরিদ্র মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক বা ভবঘুরেদের জন্য যেন আশীর্বাদ।
ছত্তীসগঢ়ে চালু হয়েছে ‘শ্রী অন্ন পূর্ণ থালি’ প্রকল্প। মাত্র ১০ টাকায় পূর্ণ আহার পেয়ে সাধারণ মানুষ এখন অনেকটাই স্বস্তিতে।
ওড়িশার ‘আহার কেন্দ্রে’ ৫ টাকায় দুপুরের আহার মিলছে। মূলত হাসপাতাল বা সরকারি দপ্তরের পাশে এই কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে, যাতে অপেক্ষারত গরিব মানুষ, পরিজন নিয়ে আসা রোগীর আত্মীয়রাও সস্তায় খাবার পেতে পারেন।
এসব প্রকল্প কেবল পেট ভরানোর নয়, এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ব পালনের প্রতিফলন। যেখানে সরকার বা সংগঠন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে সেসব মানুষের দিকে, যাঁরা প্রতিদিন খিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। এই প্রকল্পগুলো শুধু মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয় না, বরং সমাজের ভিত শক্ত করে, এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে সামনে দাঁড়ায়।
অসহায়, রোজগারহীন, ভবঘুরে কিংবা দিনমজুর— এঁদের মুখে হাসি ফোটানোই এই প্রকল্পগুলোর মূল উদ্দেশ্য। আর সেই উদ্দেশ্য সফলও হচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে। দশ টাকার খাবারে লুকিয়ে থাকে হাজার টাকার সহানুভূতি, আর কোটি টাকার মানবিকতা— সেটাই আজকের ভারতের এই অনন্য উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে।
শিক্ষার মন্দিরে নিরাপত্তাহীনতা! দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে পুলিশ পিকেট চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ অধ্যাপকরা