থমথমে লাদাখে কার্ফু জারি, চলছে ধরপাকড় — পরিস্থিতি সামলাতে ‘বিশেষ দূত’ পাঠাল কেন্দ্র

পরিস্থিতি সামলাতে ‘বিশেষ দূত’ পাঠাল কেন্দ্র লাদাখের লেহতে বুধবারের হিংসাত্মক ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মুহূর্তেই হিংসার…

September 26, 2025
0 min read

পরিস্থিতি সামলাতে ‘বিশেষ দূত’ পাঠাল কেন্দ্র

লাদাখের লেহতে বুধবারের হিংসাত্মক ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মুহূর্তেই হিংসার রূপ নেয়। বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন লাগানো হয়, পুলিশের গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। আহত হন প্রায় ৮০ জন, যার মধ্যে ৪০ জন পুলিশকর্মী। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চার জন।

এই ঘটনার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। লাদাখের উপরাজ্যপাল কবীন্দ্রর গুপ্ত গোটা লেহ শহরে কার্ফু জারি করেন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেই কার্ফু বলবৎ থাকলেও প্রশাসনের ইঙ্গিত, বিকেলের পর তা শিথিল করা হতে পারে। এদিকে, পুলিশও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হিংসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অন্তত ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের খোঁজে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছে।

বৃহস্পতিবার থেকে যদিও নতুন করে কোনও বড় অশান্তির খবর মেলেনি। তবুও পুরো এলাকা জুড়ে রয়েছে আঁটসাঁট নিরাপত্তা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যাতে ফের কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, সে দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল লাদাখে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে তারা উপরাজ্যপাল ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে এক বিশেষ দূতও, যিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপরাজ্যপাল কবীন্দ্রর গুপ্ত নিজেও পরিস্থিতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন এবং নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এই হিংসার পটভূমি বহু পুরনো। দীর্ঘ দিন ধরেই লাদাখবাসীর দাবি, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হোক। প্রায় চার মাস শান্তিপূর্ণ থাকার পর কেন্দ্র ও লাদাখের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের ঠিক আগেই নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ৬ অক্টোবর এই বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগেই এই অশান্তি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

বুধবারের ঘটনার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে ঘটে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর পরিস্থিতি বিকেল চারটার পর থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন কেউ পুরনো বা উস্কানিমূলক ভিডিও সমাজমাধ্যমে প্রচার না করেন।

বর্তমানে লেহ ও আশেপাশের এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে হলেও নতুন করে হিংসার আশঙ্কা নেই। শুক্রবার বিকেল নাগাদ কার্ফু তুলে নেওয়া হতে পারে, তবে কড়া নিরাপত্তা জারি থাকবে বলেই জানা গেছে। কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে চেষ্টা করছে, যাতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং আগামী বৈঠকে লাদাখবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির সমাধানের পথে এগোনো যায়।

সংক্ষেপে, লাদাখ এখন শান্ত হলেও সতর্ক। হিংসার রেশ পুরোপুরি না কাটলেও প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও কেন্দ্রের সক্রিয় হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন সবার চোখ ৬ অক্টোবরের বৈঠকের দিকে — সেখানেই হয়তো মিলবে এই অস্থিরতার স্থায়ী সমাধান।

ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *