তেলের বাজারে ধাক্কা! ভারত-চিন মুখ ফেরাতেই চাপে সৌদি আরব

ভারত-চিন মুখ ফেরাতেই চাপে সৌদি আরব! এক সময় এশিয়ার জ্বালানি বাজার মানেই ছিল সৌদি আরবের একচ্ছত্র দাপট। ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাইওয়ান— প্রায় সব বড় অর্থনীতিই নির্ভর করত…

May 29, 2026
1 min read

ভারত-চিন মুখ ফেরাতেই চাপে সৌদি আরব!

এক সময় এশিয়ার জ্বালানি বাজার মানেই ছিল সৌদি আরবের একচ্ছত্র দাপট। ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাইওয়ান— প্রায় সব বড় অর্থনীতিই নির্ভর করত রিয়াধের ‘আরব ক্রুড’-এর উপর। কিন্তু এখন ছবিটা দ্রুত বদলাচ্ছে। গ্যালন গ্যালন তেল মজুত থাকলেও ক্রেতা কমে যাওয়ায় বড় চাপের মুখে পড়েছে সৌদি অর্থনীতি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দেখা গিয়েছে, সৌদির অপরিশোধিত তেলের চাহিদা হঠাৎ করেই কমেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলি এখন অনেক বেশি হিসেব কষে তেল কিনছে। এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

সবচেয়ে বড় কারণ দাম। সৌদির তেল এখন তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি ব্যয়বহুল। অন্য দিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, রাশিয়া, ইরান, এমনকি ভেনেজ়ুয়েলা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশ কম দামে তেল দিতে শুরু করেছে। ফলে ভারত বা চিনের মতো দেশগুলি সস্তার বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে।

ভারতের অবস্থান এ ক্ষেত্রে একেবারে স্পষ্ট। কেন্দ্র জানিয়েছে, যে দেশ কম দামে তেল দেবে, সেখান থেকেই আমদানি করা হবে। কোনও একটি দেশের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে চায় না নয়াদিল্লি। তাই সৌদির পাশাপাশি রাশিয়া ও আমেরিকা থেকেও বিপুল পরিমাণে তেল কিনছে ভারত। এর ফলে মে মাসে সৌদি থেকে ভারতের তেল আমদানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে।

চিনও একই পথে হাঁটছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির পরে বেজিং ইরান থেকে তেল কেনা অনেকটাই বাড়িয়েছে। ফলে সৌদির উপর নির্ভরতা কমেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও ধীরে ধীরে বিকল্প উৎস খুঁজছে।

আরও একটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে পরিবহণে। ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ় প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পরে সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের বন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তেল পৌঁছতে সময় বেশি লাগছে, পাশাপাশি বাড়ছে ট্যাঙ্কারের খরচও। এশিয়ার দেশগুলি সেই অতিরিক্ত ব্যয়ভার নিতে খুব একটা আগ্রহী নয়।

তার উপর ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বেরিয়ে আসাও সৌদির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইউএই এখন আলাদা ভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তেল চুক্তি করছে এবং কম দামে বাজার ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে সৌদির দীর্ঘদিনের প্রভাব ধাক্কা খেয়েছে।

তবে পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, সৌদি আরবের মতো তেলসমৃদ্ধ দেশের পক্ষে হঠাৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া সহজ নয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক হিসাবে তাদের এখনও বিপুল শক্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে টিকে থাকতে হলে রিয়াধকে হয় দাম কমাতে হবে, নয়তো আরও প্রতিযোগিতামূলক শর্তে তেল বিক্রি করতে হবে।

সব মিলিয়ে, এশিয়ার জ্বালানি বাজার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বহুমুখী। ভারত-চিনের মতো দেশগুলি বুঝিয়ে দিয়েছে, আবেগ নয়— জ্বালানি নীতিতে এখন সবচেয়ে বড় কথা লাভ আর কৌশল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *