তৃণমূলের নতুন পদক্ষেপ: সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি

সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি! পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে। শাসকদল সূত্রের খবর, বিরোধী…

March 10, 2026
1 min read

সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি!

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে। শাসকদল সূত্রের খবর, বিরোধী দলগুলির সমর্থন পেতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, এবং চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সংসদে প্রস্তাব আনতে পারে তারা।

সূত্রের দাবি, ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সংসদের দুই কক্ষের দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের রাষ্ট্রীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংসদদের নির্দেশ দেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহল বিপক্ষের প্রতিক্রিয়া যাচাই এবং জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী অবস্থান শক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

একটি সাংবিধানিক পদে ইমপিচমেন্ট আনার জন্য অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা বর্তমানে ৪১। তাই স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলকে সমমনা দলগুলির কাছে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। শাসকদলের কৌশল হলো, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির নির্বাচিত সাংসদদের সমর্থন পাওয়া। এতে, যদি স্বাক্ষর পান, তৃণমূল জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করবে; আর না পেলে সংশ্লিষ্ট দলের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই পদক্ষেপ এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার মাধ্যমে সংসদীয় রাজনীতিতে বিজেপির রূপও ‘উন্মোচিত’ হবে। একই সঙ্গে, পূর্বের এসআইআর (সেনসিটিভ ইলেকশন রিলেটেড) পদক্ষেপ-এর মতোই, যেখানে তৃণমূল কার্যত নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল, এই বারও তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে।

এছাড়া, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তৃণমূল যদি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সমর্থন পায়, তা হবে জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী ঐক্যের প্রতীক। এর আগের উদাহরণও আছে; লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে প্রথমে কংগ্রেস সই না দিলেও, পরে তৃণমূল সমর্থন জানিয়েছিল। এই পদ্ধতি দেখায়, তৃণমূল রাজনীতিতে কৌশলগত সমর্থন নিয়ে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ।

সংক্ষেপে, তৃণমূলের এই পদক্ষেপ শুধু একটি আইনি বা সাংবিধানিক উদ্যোগ নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী অবস্থান দৃঢ় করার একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। স্বাক্ষর সংগ্রহ থেকে প্রস্তাব আনা পর্যন্ত সব ধাপই রাজনৈতিক মহলে নজরদারি এবং বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *