তিব্বতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প!
তিব্বতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর অঞ্চলটির ক্ষতিগ্রস্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কম্পনের পর পরবর্তী প্রায় ৪০টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি কম্পন ছিল ৩ মাত্রারও বেশি। এই ভূমিকম্পের কারণে তিব্বতে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৬২ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আফটারশকগুলোও অঞ্চলটিতে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব তিব্বতের শিগাতস প্রদেশে বেশি ছিল, যা এভারেস্টের উত্তরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ভূমিকম্পের ধাক্কা শুধু তিব্বতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তিব্বত এবং সন্নিহিত অঞ্চলগুলোতে অনেক ভবন এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তিব্বতের লাৎসে শহরের কাছের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে, যেখানে রাস্তাঘাটে দোকান ভেঙে পড়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।
তিব্বতে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.১, যা সাধারণত মারাত্মক ক্ষতি সৃষ্টি করে। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা শিংহুয়া জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর হতাহতের সংখ্যা জানার চেষ্টা চলছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের তিংরি প্রদেশে, যেখানে ব্যাপক ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়েই আফটারশকগুলো সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ সংবাদপত্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৪০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি ছিল ৩ মাত্রার বেশি। এই আফটারশকগুলো মানুষের মধ্যে আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, তিব্বতের কিছু এলাকায় ভবনগুলো ধসে পড়েছে, রাস্তা ভেঙে গেছে এবং সেখানে থাকা দোকানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং লোকজন প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। সোলুখুম্বু জেলায়ও কম্পন অনুভূত হয়েছে, যদিও সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে বিহার, সিকিম, উত্তরবঙ্গ ও অসমে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই অঞ্চলটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় তলদেশের সংঘর্ষের কারণে ভূমিকম্পপ্রবণ। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরেও নেপালে ৬.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। ২০১৫ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। এর পাশাপাশি, ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।
তিব্বতে এই ভূমিকম্পের ঘটনায় মানুষের জন্য উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চলছে, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলে ভৌগোলিক ও টেকটনিক কারণে ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে।
শীর্ষ আদালতে এসএসসি চাকরি বাতিল ও ডিএ মামলার শুনানি: নতুন বছরে নজরকাড়া ঘটনা