তিন দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন কাছের ঠিকানা, তালিকায় থাক পাহাড়, অরণ্য আর নদীর মায়া

তিন দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন কাছের ঠিকানা! ছুটি কম, কিন্তু মন চাইছে একটু হাওয়া বদল করতে? সপ্তাহান্তের সঙ্গে আরও দু’এক দিন ছুটি জুড়ে নিলেই কলকাতার আশপাশেই মিলতে পারে মন ভালো…

June 25, 2026
1 min read

তিন দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন কাছের ঠিকানা!

ছুটি কম, কিন্তু মন চাইছে একটু হাওয়া বদল করতে? সপ্তাহান্তের সঙ্গে আরও দু’এক দিন ছুটি জুড়ে নিলেই কলকাতার আশপাশেই মিলতে পারে মন ভালো করার মতো কিছু গন্তব্য। বর্ষার সময়ে সবুজে মোড়া পাহাড়, নির্জন সমুদ্রসৈকত কিংবা অরণ্যের মাঝে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। গাড়ি কিংবা ট্রেনে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এমন কয়েকটি জায়গা হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের ঠিকানা।

বাগদা সৈকত: নির্জন সমুদ্রের হাতছানি

সমুদ্র মানেই শুধু পুরী বা দিঘা নয়। একটু নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে ওড়িশার ডবলাগড়ির বাগদা সৈকত হতে পারে দারুণ পছন্দ। কলকাতা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরের এই সৈকত গত কয়েক বছরে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ঝাউবনে ঘেরা এই সৈকতে নেই অতিরিক্ত ভিড় বা কোলাহল। সমুদ্রের ঢেউ, শান্ত পরিবেশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরোয়া রান্নার স্বাদ—সব মিলিয়ে ছোট ছুটিতে মন ভরিয়ে দেওয়ার মতো জায়গা এটি।

বাগদা থেকে ঘুরে নিতে পারেন ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দির, নীলগিরি হ্রদ, পঞ্চলিঙ্গেশ্বর ও কুলডিহা অভয়ারণ্য। থাকার জন্য সৈকতের কাছে রয়েছে একাধিক পরিবেশবান্ধব স্টে ও তাঁবুর ব্যবস্থা।

যেতে হলে প্রথমে বালেশ্বর পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় ডবলাগড়িতে।

বড়ন্তি: পাহাড়, জলাধার আর লালমাটির সৌন্দর্য

বর্ষায় পুরুলিয়ার বড়ন্তি যেন নতুন রূপ পায়। চারদিকে সবুজ পাহাড়, জঙ্গল আর মুরাডি পাহাড়ের কোলে শান্ত বড়ন্তি হ্রদ—প্রকৃতির সঙ্গে কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য আদর্শ জায়গা।

সাঁওতাল অধ্যুষিত এই ছোট্ট গ্রামটির চারপাশে রয়েছে শাল, পিয়াল, পলাশ, মহুয়া ও আকাশমণির জঙ্গল। লালমাটির পথ ধরে হাঁটা, হ্রদের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখা কিংবা কাছেই পাঞ্চেত জলাধার ও গড় পঞ্চকোট ঘুরে আসা—সব মিলিয়ে বড়ন্তি হতে পারে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

থাকার জন্য বড়ন্তিতে রয়েছে বেশ কিছু হোটেল ও রিসর্ট। জায়গা না পেলে পাঞ্চেতের কাছেও থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যায়।

যেতে হলে হাওড়া, শিয়ালদহ বা কলকাতা থেকে ট্রেনে আসানসোল পৌঁছে সেখান থেকে আদ্রা লাইনে মুরাডি স্টেশনে নামতে হবে। স্টেশন থেকে গাড়ি বা রিকশায় প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পেরোলেই বড়ন্তি।

শুশুনিয়া: পাহাড়ের কোলে ইতিহাসের ছোঁয়া

বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ও তিন দিনের ভ্রমণের জন্য দুর্দান্ত একটি গন্তব্য। বর্ষায় পাহাড়ের গায়ে সবুজের আস্তরণ আরও ঘন হয়ে ওঠে। শান্ত পরিবেশ, পাহাড়ি হাওয়া আর প্রকৃতির সৌন্দর্য মনকে সহজেই সতেজ করে দিতে পারে।

প্রায় ১২০০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড় শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্যও পরিচিত। এখানে রয়েছে প্রাচীন শিলালিপি, যা রাজা চন্দ্রবর্মণের সময়কার বলে মনে করা হয়। পাহাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে গন্ধেশ্বরী নদী।

শুশুনিয়ার আশপাশে সরকারি ও বেসরকারি থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রিসর্টেও থাকা যায়।

কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২২০ কিলোমিটার। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বাঁকুড়া বা ছাতনা পৌঁছে সেখান থেকে বাস, অটো বা গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া যায়। তবে গাড়িতে গেলে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

কম ছুটিতেও যদি প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চান, তা হলে এই তিনটি জায়গাই হতে পারে আপনার ছোট্ট বিরতির বড় ঠিকানা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *