তাসমানিয়ান বাঘের পুনরুত্থান: বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির অন্তরালে কি সত্যি?

তাসমানিয়ান বাঘের পুনরুত্থান তাসমানিয়ান বাঘ, যা একটি প্রজাতির বিলুপ্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী, এখন বিজ্ঞানীদের গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৬ সালে একে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়, কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে তারা…

October 30, 2024
1 min read

তাসমানিয়ান বাঘের পুনরুত্থান

তাসমানিয়ান বাঘ, যা একটি প্রজাতির বিলুপ্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী, এখন বিজ্ঞানীদের গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৬ সালে একে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়, কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে তারা এই শয়তানকে আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারেন। প্রশ্ন উঠছে, এই দাবির পিছনে কি কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, নাকি সত্যিই কিছু ঘটতে যাচ্ছে?

তাসমানিয়ান বাঘের বৈশিষ্ট্য হল হলদে-বাদামী বা ধূসর রঙ এবং শরীরজুড়ে ১৫ থেকে ২০টি গাঢ় ডোরাকাটা দাগ। দেখতে এটি কুকুর ও নেকড়ের মধ্যে অবস্থিত। এক সময় সারা অস্ট্রেলিয়ায় এদের দাপট ছিল, কিন্তু পশুপালকদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে এক সময় নির্বিচারে নিধন শুরু হয়। ফলস্বরূপ, তাসমানিয়ান বাঘের সংখ্যা কমতে থাকে এবং একসময় তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

তাসমানিয়ান

শেষ তাসমানিয়ান বাঘের দেখা মিলেছিল ১৯৩৬ সালে হোবার্টের বিউমারিস চিড়িয়াখানায়। এর পর থেকে তাদের অস্তিত্বের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা বর্তমানে দাবি করছেন যে তারা ১১০ বছর ধরে সংরক্ষিত তাসমানিয়ান বাঘের ডিএনএ ব্যবহার করে পুনরুত্থানের পন্থা খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছেন।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘থাইলাসিন ইন্টিগ্রেটেড জেনেটিক রিস্টোরেশন রিসার্চ’ নামে একটি প্রকল্প চালাচ্ছেন, যার জন্য তারা ৩০ কোটি টাকার অনুদান পেয়েছেন। তারা বিভিন্ন জাদুঘর থেকে তাসমানিয়ান বাঘের মাথার খুলি ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করছেন। গবেষকদের মতে, ডুনার্ট নামের একটি প্রাণীর সঙ্গে তাসমানিয়ান বাঘের ডিএনএ মিলিয়ে এদের পুনরুত্থান সম্ভব।

ডুনার্ট, যদিও আকারে ছোট, কিন্তু তাসমানিয়ান বাঘের মতোই মাংসাশী। তাদের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য রয়েছে, যেমন উভয়েই লেজে চর্বি জমা করে এবং শিকারের জন্য ধারালো দাঁত ব্যবহার করে। বিজ্ঞানীরা ডুনার্টের ডিএনএ কোড পরিবর্তন করে তাসমানিয়ান বাঘের কোডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন এবং এতে বেশ কিছু মিল পাওয়া গেছে।

গবেষকরা প্রথমে ইঁদুরের উপর তাসমানিয়ান বাঘের ডিএনএ প্রতিস্থাপন করেছেন, এবং তারা দেখতে পেয়েছেন যে ইঁদুরের মাথার আকার পরিবর্তিত হয়েছে। এটি সাফল্যের একটি সূচক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

তবে এই দাবির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জীববিজ্ঞানীদের একাংশ। তারা মনে করেন, হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর পুনরুত্থান শুধুমাত্র কল্পনাপ্রসূত। এদিকে, গবেষকেরা দাবি করছেন যে তারা এই প্রাণীকে ফিরিয়ে আনতে চান বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা করার জন্য।

তাসমানিয়ান বাঘ ফিরে এলে এটি তাসমানিয়ান ডেভিলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কারণ এই ডেভিল মার্সুপিয়াল গোত্রের একটি প্রাণী এবং এটি একটি মুখের ক্যানসারের জীবাণু বহন করে যা অন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়ায়। এদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে তাসমানিয়ান বাঘের পুনরুত্থান জরুরি বলেও মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

অতএব, তাসমানিয়ান বাঘের পুনরুত্থান বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, এটি গবেষণার মাধ্যমে বাস্তবতা অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে পারে। কি ঘটবে ভবিষ্যতে, তা সময়ই বলবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *