তারাপীঠে লক্ষ্মীরূপে দেবীর পূজা
আজকের দিনটি তারাপীঠ মন্দিরে ভক্তদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ এনে দিয়েছে। তারা মায়ের আর্বিভাব তিথি এবং কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। গত দুদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এই পবিত্র সিদ্ধপীঠে সমবেত হয়েছেন, মা তারার আশীর্বাদ পেতে।
বুধবার ভোরবেলা শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে সূর্যোদয়ের পর মাকে গর্ভগৃহ থেকে বিশ্রাম মন্দিরে আনা হয়। বিশেষ প্রথা অনুযায়ী, জীবিতকুণ্ড থেকে জল এনে মাকে স্নান করানো হয় এবং এরপর মাকে রাজকীয় সাজে সাজিয়ে পুজো করা হয়। সারাদিন ধরে মায়ের পুজো চলবে এবং এই বিশেষ দিনে ভক্তরা মাকে স্পর্শ করে পুজো দিতে পারবেন। এই সুযোগটি বছরে মাত্র একবারই পাওয়া যায়, তাই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
সন্ধ্যায় লক্ষ্মীরূপে দেবীর আরাধনা
সন্ধ্যায় দেবীকে গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনা হবে এবং লক্ষ্মীরূপে পুজো করা হবে। আজকের দিনটির বিশেষত্ব হল, এই দিনে দেবীর কোনো অন্নভোগ হয় না। দেবীর আরাধনার এই বিশেষ দিনে তারাপীঠের সেবায়েতরাও অন্ন গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন, যা প্রাচীন রীতির অংশ। সন্ধ্যায় মাকে পুনরায় স্নান করিয়ে, গর্ভগৃহে প্রবেশ করানো হবে। এরপর দেবীকে রাজরাজেশ্বরী রূপে পূজিত করা হবে এবং লক্ষ্মী মূর্তিতে আরাধনা করা হবে।

তারাপীঠের ইতিহাস
তারাপীঠের এই পুজোর ইতিহাস বহু পুরনো। পাল রাজত্বকালে জয়দত্ত সদাগর মায়ের শিলামূর্তি উদ্ধার করে প্রথম পুজো শুরু করেন। সেই থেকে এই তিথি তারা মায়ের আর্বিভাব তিথি হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই বিশেষ দিনে মাকে তাঁর ছোট বোন মৌলিক্ষা দেবীর মন্দিরের দিকে মুখ করে বসানো হয়। এদিন দিনভর দেবীকে রাজকীয় সাজে সাজিয়ে পুজো করা হয়। সন্ধ্যায় পুনরায় স্নান করিয়ে, গর্ভগৃহে প্রবেশ করানো হয় এবং এরপর দেবীকে লক্ষ্মীরূপে পূজা করা হয়।
বিশেষ ভোগ এবং রাতের আয়োজন
রাতের বিশেষ ভোগে দেবীকে নিবেদন করা হবে খিচুড়ি, পোলাও, পাঁঠার মাংস, মিষ্টি, পায়েস এবং দই। ভক্তরা এই ভোগের মাধ্যমে দেবীর আশীর্বাদ গ্রহণ করবেন। এই দিনটির পবিত্রতা এবং মহিমা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে দেবীর আরাধনা করতে ভক্তরা ভোর থেকে সারাদিন ধরে মন্দিরে উপস্থিত থাকছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
উৎসবের ভিড় সামলাতে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ভক্তদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মন্দির চত্বরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের তরফ থেকেও কড়া নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
তারাপীঠ মন্দিরে আজকের এই পবিত্র দিনটি ভক্তদের জন্য এক বিরল সুযোগ। দেবী তারার আশীর্বাদ পেতে এই বিশেষ তিথিতে মন্দির চত্বর জুড়ে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে ভক্তি এবং উৎসাহের চরম অভিব্যক্তি।