তামিলনাড়ুর চিংড়ি কারখানায় ভয়াবহ গ্যাস লিক!
তামিলনাড়ুর একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের তিরুভাল্লুর জেলায় অবস্থিত ওই কারখানায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অন্তত সাত জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সকলেই মহিলা বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া ৬৫ জনেরও বেশি শ্রমিককে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তিরুভাল্লুর জেলার কান্নিগাইপায়ার গ্রামের একটি চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি কারখানায়। দুর্ঘটনার পর কারখানার ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শ্রমিকের শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, বমি এবং শারীরিক অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিরুভাল্লুরের জেলাশাসক কবিতা জানিয়েছেন, মোট ৬৭ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং ২১ জন অন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ অন্তত ন’জনকে চেন্নাইয়ের স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানার একটি পরিমাপক ভাল্ভ থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস বেরিয়ে আসে। সেই গ্যাস দ্রুত কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে বহু জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
প্রশাসন জানিয়েছে, আক্রান্ত শ্রমিকদের অধিকাংশই ভিন্রাজ্যের বাসিন্দা। বিশেষ করে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাঁরা কাজের জন্য তামিলনাড়ুতে এসেছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ভিজয় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে শিল্প নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকর্তা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য-সচিব এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত অধিকর্তাকে রাখা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। আহতদের চিকিৎসায় কোনও রকম গাফিলতি না হয়, সে দিকেও নজর রাখতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন— এখন সেই দিকেই নজর তদন্তকারী দলের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?