ড্রোন আতঙ্কে ৭ ঘণ্টা বন্ধ মিউনিখ বিমানবন্দর!
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই ইউরোপে ফের দেখা দিল ড্রোন আতঙ্ক। ড্রোনের সম্ভাব্য হানার আশঙ্কায় টানা সাত ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হল জার্মানির ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলির এক, মিউনিখ বিমানবন্দরকে। এর ফলে বাতিল হয়েছে অন্তত ১৭টি উড়ান এবং যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দিতে হয়েছে আরও ১৫টি বিমানের। বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৩০০০ যাত্রী।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা নাগাদ দক্ষিণ জার্মানির এই শহরের আকাশে হঠাৎই দেখা যায় একাধিক ড্রোন। সঙ্গে সঙ্গে জারি হয় সতর্কতা, বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত উড়ান পরিষেবা। প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকালে ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে বিমানবন্দর।
ড্রোন আতঙ্কে বাতিল করা হয় ১৭টি উড়ান, পাশাপাশি ১৫টি বিমানের যাত্রাপথ বদলে পাঠানো হয় পার্শ্ববর্তী দেশের বিমানবন্দরে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, জার্মানিরই স্টুটগার্ট, নুরেমবার্গ এবং ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর। এ ঘটনায় মিউনিখে আটকে পড়েন ৩০০০-রও বেশি যাত্রী। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরণ বা হামলার ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে প্রশাসনকে।
এই ঘটনায় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে রাশিয়ার ড্রোন হামলার আশঙ্কা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউরোপের দেশগুলি কিয়েভের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জার্মানি ইউক্রেনকে সামরিক ও মানবিক সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। ফলে রাশিয়া পশ্চিম ইউরোপে হামলা চালাতে পারে— এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরাও।
কয়েক সপ্তাহ আগেও ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরে এমন ঘটনা ঘটেছিল। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহাগেন এবং নরওয়ের অসলো বিমানবন্দরের আকাশে ড্রোন দেখা গিয়েছিল, যার জেরে বাতিল হয়েছিল একাধিক উড়ান। পরে ডেনমার্ক সরকার বেসরকারি ড্রোন ওড়ানো সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। তখনও অভিযোগ উঠেছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর থেকেই ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়। তাই মিউনিখ বিমানবন্দরের আকাশে ড্রোন দেখা মাত্রই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তড়িঘড়ি উড়ান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। যদিও জার্মান সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ড্রোনগুলি কোন দেশ থেকে এসেছে বা কারা তা ওড়াচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত চলছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে।
যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে আটকে থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। অনেকে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গন্তব্যে পৌঁছন, কেউ কেউ আবার বিকল্প উড়ানের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। তাই সাময়িক অসুবিধা হলেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের জেরে ইউরোপজুড়ে এমন ড্রোন আতঙ্ক যে আরও বাড়তে পারে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ড্রোনের মাধ্যমে হানার ঝুঁকিও তত বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতে বিমানবন্দরগুলিতে আরও কড়া নজরদারি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
ড্রোনের কারণে বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনা একবারের নয়, তবে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর মিউনিখে এমন ঘটনা ঘটায় ইউরোপে উদ্বেগ বাড়িয়েছে অনেক গুণ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন কড়া নজরদারিতে গোটা বিমানবন্দর এবং আশপাশের আকাশসীমা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?