‘ডেটিং অ্যাপ সমাজের নর্দমা’
বলিউডে তাঁর নাম উঠলেই বিতর্ক যেন ছায়ার মতো জড়িয়ে থাকে। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন রাজনীতির ময়দানেও সমান সক্রিয় কঙ্গনা রনৌত। বর্তমানে তিনি বিজেপির সাংসদ। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কমই সরব হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে একাকী জীবন কাটালেও, কোনও সম্পর্কে জড়ানোর বা বিয়ে করার প্রসঙ্গে বিশেষ কিছু শোনা যায়নি তাঁর মুখে। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন কঙ্গনা।
ডেটিং অ্যাপ নিয়ে ক্ষোভ
বর্তমান সময়ে অনেকেই সঙ্গী খুঁজতে ডেটিং অ্যাপের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কঙ্গনার কাছে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের কোনো মূল্যই নেই। বরং এমন অ্যাপের নাম শুনলেই তিনি রেগে ওঠেন। তাঁর দাবি, ডেটিং অ্যাপ আসলে সমাজের নর্দমার মতো। কঙ্গনা বলেন,
“আমি কখনও ডেটিং অ্যাপে থাকতে চাইনি। ওগুলো নর্দমার মতো। প্রত্যেকের জীবনে কিছু না কিছু প্রয়োজন থাকে—কারও অর্থের জন্য, কারও আবার শরীরের জন্য।”
আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে হতাশা
আজকের যুগের সম্পর্কের ধরন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী-সাংসদ। তাঁর কথায়,
“আজ নারী-পুরুষের জীবনে নানা ধরনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেই প্রয়োজন বোঝার উপায় কী? সম্পর্ক কি ভদ্রতা ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া উচিত, না কি প্রতিদিন রাতে নতুন সঙ্গী খুঁজতে বেরোনো উচিত? এটাই এখনকার সম্পর্কের ভয়ঙ্কর বাস্তব।”
ব্যবহারকারীদের সমালোচনা
ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রতিও তাঁর তীব্র সমালোচনা। কঙ্গনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা এসব অ্যাপে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতেও তাঁর ঘেন্না হয়। এক সাক্ষাৎকারে সঞ্চালক যখন তাঁর বক্তব্যে সামান্য দ্বিমত পোষণ করেন, কঙ্গনা পাল্টা জবাব দেন,
“আপনি আসলে কটাক্ষের ভয়ে নিজের মত বলছেন না। নিজের ভাইবোনদের ক্ষেত্রেও কি আপনি এভাবে ভাববেন? সাধারণ কেউ এসব অ্যাপ সমর্থন করবে না। আত্মবিশ্বাসহীন মানুষরাই ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে।”
বিকল্প ভাবনা
তবে কঙ্গনার মতে, সম্পর্ক গড়ে ওঠার জায়গা হতে পারে কর্মক্ষেত্র কিংবা শিক্ষাঙ্গন। পরিবার থেকে সম্বন্ধ করে বিয়ের বিষয়টিকেও তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন। তাঁর বক্তব্য,
“অফিসে বা কলেজে আপনি ভালো মানুষ খুঁজে পেতে পারেন। বাবা-মাও আপনার জন্য সঠিক সঙ্গী খুঁজে দিতে পারেন। আমার মতো কাউকে কখনও ডেটিং অ্যাপে পাবেন না। সেখানে কেবল ব্যর্থ মানুষদেরই ভিড় থাকে।”
কঙ্গনার এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ তাঁর সপক্ষে মত দিচ্ছেন, কেউ আবার কটাক্ষ করছেন। তবে এটুকু পরিষ্কার, সম্পর্ক নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি মূলধারার ধারা থেকে একেবারেই আলাদা।