ডুরান্ড ডার্বি!
ডুরান্ড কাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে কলকাতার দুই প্রধান — মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। তবে এ বার ম্যাচটা গ্রুপ পর্ব নয়, সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল। তাই বলা হচ্ছে, ফাইনালের আগেই আরও এক ফাইনাল! রবিবার কাদের দাপট দেখা যাবে, তা নিয়ে দুই শিবিরেই উত্তেজনা তুঙ্গে।
সমানে সমান দুই প্রধান
পরিসংখ্যান বলছে, এ বার দু’দলকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। গ্রুপ পর্বে তিনটি করে জয় তুলে নিয়েছে দুই দল। দিয়েছে ১২টি করে গোলও। বিদেশিদের পাশাপাশি দেশীয় খেলোয়াড়েরাও সমানভাবে নজর কেড়েছেন। তাই মাঠে নামার আগে দু’পক্ষই ৫০-৫০ সমান শক্তিশালী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিজ্ঞ বাগান বনাম নতুন লাল-হলুদ
মোহনবাগান তাদের মূল দলকে প্রায় অক্ষত রেখেছে। শুধু দেশীয় নয়, পাঁচ বিদেশি ফুটবলারের সঙ্গেও পুরনো সম্পর্ক। জেমি ম্যাকলারেন, জেসন কামিংস, দিমি পেত্রাতোস, টম অলড্রেড ও আলবের্তো রদ্রিগেজ় গত মরসুমেই এই দলের হয়ে ডার্বিতে খেলেছেন এবং জয়ী হয়েছেন। ফলে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের ভালোভাবেই জানা।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল অনেকটাই নতুন সাজে নামছে। ছয় বিদেশির মধ্যে প্যালেস্টাইনের মোহম্মদ রশিদ ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরলেও বাকিদের মধ্যে দিয়ামানতাকোস ও সাউল ক্রেসপোর ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু মিগুয়েল ফিগুয়েরা, কেভিন সিবিলে ও হামিদ আহদাদের জন্য এটাই প্রথম ডার্বি। নতুনদের উপর ভরসা রাখতে হবে অস্কার ব্রুজ়োকে।
কেন পিছিয়ে নেই ইস্টবেঙ্গল?
গত কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গলের বড় সমস্যা ছিল দলে বোঝাপড়ার অভাব। নতুন খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে বারবার হোঁচট খেয়েছে দল। কিন্তু এ বার সেই ছবি কিছুটা বদলেছে। কোচ ব্রুজ়ো অনেক আগে থেকেই দল গুছিয়ে নিয়েছেন। বিদেশিরা সময় মতো যোগ দেওয়ায় তাদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। যার ফল ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বেই দেখা গিয়েছে। রশিদ ও হামিদ গোলের মধ্যে রয়েছেন, বিপিন সিংহও দারুণ ছন্দে। ফলে এ বার আর লাল-হলুদকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
রুদ্ধদ্বার প্রস্তুতি ও কৌশল
ডার্বির আগে দুই শিবিরই অনুশীলন করেছে রুদ্ধদ্বার। প্রতিপক্ষের সামনে নিজের কৌশল ফাঁস করতে চান না কেউ। মোলিনার ভরসা অভিজ্ঞ বিদেশিরা, সঙ্গে দুরন্ত ফর্মে থাকা লিস্টন কোলাসো। সাহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা ও আপুইয়া মাঝমাঠে ছন্দ তুলছেন। গোলের নিচে বিশাল কাইথও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, ব্রুজ়োর কৌশল নতুন দলকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া।
সমর্থকদের প্রত্যাশা
আইএসএলে এখনও পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ডার্বি জিততে পারেনি। তাই সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচ মর্যাদার লড়াই। অন্যদিকে, বাগান ভক্তরা চাইছে নিজেদের অভিজ্ঞতার জোরে আরও একবার দাপট দেখাতে। রবিবারের লড়াই তাই শুধুই কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, দুই প্রধানের মর্যাদা রক্ষারও ম্যাচ।