ডি গুকেশ
বিশ্ব দাবা অঙ্গনে নতুন নাম লিখেছেন ডি গুকেশ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের কনিষ্ঠতম দাবা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। ভারতীয় দাবা জগতে গুকেশের সাফল্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা দাবা প্রেমীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
গুকেশ ২০০৬ সালের ২৯ মে চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা একজন ইএনটি সার্জন এবং মা একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট। ছোট বয়স থেকেই গুকেশের মধ্যে দাবার প্রতি অদম্য আগ্রহ দেখা দেয়। ৭ বছর বয়সে দাবা খেলা শুরু করেন তিনি, আর তারপর থেকেই এই খেলায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। দাবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তিনি ক্লাস ফোরের পর থেকে নিয়মিত স্কুলে যেতে বন্ধ করে দেন এবং পুরোপুরি দাবা খেলার দিকে মনোনিবেশ করেন। তাঁর পরিবার, বিশেষ করে বাবা, সবসময় তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন, এমনকি বাবা নিজের চিকিৎসা প্র্যাকটিসও বন্ধ করে গুকেশের দাবা চর্চার জন্য সব ধরনের সাহায্য প্রদান করেছেন।
গুকেশের দাবা খেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোটোখাটো টুর্নামেন্ট দিয়ে, কিন্তু খুব দ্রুত তিনি নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক স্তরে খেলার সুযোগ পান। ১৮ বছর বয়সে গুকেশ যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে, তখন তিনি বিশ্বনাথন আনন্দের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে এই শিরোপা অর্জন করেন। তাঁর এই কৃতিত্ব ভারতীয় দাবা ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, গুকেশ দাবি করেন যে, তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ু হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এবং সেই লক্ষ্য অর্জন করার পর, তিনি নিজেকে দাবার ইতিহাসে চিরকালীনভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গুকেশের আর্থিক সাফল্যও বিস্ময়কর। টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচ জয় করে তিনি মোট ৫.০৭ কোটি টাকা জিতেছেন। পুরো টুর্নামেন্ট থেকে তাঁর আয় ছিল ১১.৪৫ কোটি টাকা। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গুকেশের মোট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি টাকা। এর আগে তাঁর সম্পত্তি ছিল ৮.২৬ কোটি টাকা।
গুকেশের এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি ভারতীয় দাবা জগতের একটি বিশাল সাফল্য। ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিভাবান দাবাড়ু তৈরি হবে, যাঁরা গুকেশের মতো ভারতকে আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে আরও উচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে।
গুকেশের সফলতা শুধুমাত্র দাবায় নয়, তার জীবনযাত্রাতেও এক অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং একাগ্রতার মাধ্যমে যে কোনও লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। তাঁর সাফল্য বিশ্বজুড়ে ভারতীয়দের জন্য একটি গর্বের বিষয়।