ডিএ মামলায় সময় বাড়ানোর আবেদন: প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলল রাজ্য, ১৩ মার্চ ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি কর্মচারীদের

ডিএ মামলায় সময় বাড়ানোর আবেদন! মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে চলা আইনি লড়াই নতুন মোড় নিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবারও Supreme…

March 7, 2026
1 min read

ডিএ মামলায় সময় বাড়ানোর আবেদন!

মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে চলা আইনি লড়াই নতুন মোড় নিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবারও Supreme Court of India-এর দ্বারস্থ হয়েছে। শুক্রবার এই সংক্রান্ত আবেদন জমা দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

নবান্নের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে, ডিএ বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই খবর সামনে আসতেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির একাংশ। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি দ্রুত পূরণ না হলে ১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিস অচল করে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, অতীতে সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘটের বিরুদ্ধে বরাবরই কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিএ ইস্যুতে রাজ্য সরকার কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কী ছিল

ডিএ মামলায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ডিএ কোনও দয়া নয়, এটি তাঁদের আইনগত প্রাপ্য।

রায়ে বলা হয়, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ কর্মচারীদের দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি Indu Malhotra-র নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়।

আদালতের নির্দেশ ছিল—মোট কত টাকা দিতে হবে এবং কীভাবে কিস্তিতে তা পরিশোধ করা হবে, তার একটি সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। এই হিসাব তৈরির সময়সীমা ছিল ৬ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। পাশাপাশি প্রথম কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল ৩১ মার্চের মধ্যে।

কোথায় সমস্যা দেখছে রাজ্য

রাজ্য সরকারের দাবি, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় আর্থিক দায় মেটানোর প্রস্তুতি নেওয়া বাস্তবে খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, বকেয়া ডিএ নির্ধারণ করতে প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারেরও বেশি কর্মরত সরকারি কর্মচারীর তথ্য যাচাই করতে হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর নথিও সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রয়োজন। সমস্যার বড় কারণ হল, ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত অধিকাংশ তথ্য ডিজিটাল আকারে নেই। সেগুলি সার্ভিস বুকের হাতে লেখা নথি হিসেবে সংরক্ষিত। ফলে সেই তথ্য ডিজিটাইজ় করা ও যাচাই করতে সময় লাগছে।

প্রযুক্তিগত ও আর্থিক চাপ

রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের কিছু তথ্য Integrated Financial Management System বা আইএফএমএস-এ পাওয়া যাচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবের কাজ শুরু হয়েছে।

তবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের তথ্য সংগ্রহের জন্য আলাদা একটি অনলাইন পোর্টাল তৈরি করতে হচ্ছে। সেখানে কর্মচারীদের নিজেদের তথ্য আপলোড করতে হবে এবং তা যাচাই করা হবে। এই পোর্টাল চালু করার আগে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা পরীক্ষাও জরুরি।

এছাড়াও রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বকেয়া ডিএ পরিশোধের মোট পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। সেই সঙ্গে রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা, ঋণ নেওয়ার নিয়ম এবং Fiscal Responsibility and Budget Management Act-এর সীমা মেনেও চলতে হচ্ছে।

প্রশাসনিক দিক থেকেও কাজটি বিশাল। প্রায় ৬,৫০০ ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারের মাধ্যমে বিল তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ট্রেজারি, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দফতর এবং ব্যাঙ্কের সঙ্গে তথ্য সমন্বয় করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, ডিএ ইস্যুতে আদালত, সরকার এবং কর্মচারী সংগঠনের টানাপোড়েন আগামী দিনগুলিতে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *