ডিএ মামলায় বড় দিন সোমবার!
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে উঠছে এই বহু প্রতীক্ষিত মামলা। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি পিকে মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে হবে শুনানি। প্রশ্ন এখন একটাই—রাজ্য সরকার কি আরও ছ’মাস সময় পাবে, নাকি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ দিতেই হবে?
গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ছ’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএর অন্তত ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনেই, রাজ্য সরকার আদালতে নতুন করে আবেদন জানিয়ে আরও ছ’মাস সময় চায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আগামী সোমবার হবে শুনানি।
রাজ্যের দাবি, তারা এখন মারাত্মক আর্থিক সংকটে রয়েছে। লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগীকে একসঙ্গে বকেয়া ডিএ দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। রাজ্য হিসাব অনুযায়ী, শুধু কর্মচারীদের বকেয়া ডিএর পরিমাণই প্রায় ১১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। পেনশনভোগীদের পাওনা প্রায় ১১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এর সঙ্গে পুরসভা, পঞ্চায়েত ও অন্যান্য সংস্থার কর্মচারীদের পাওনা ধরলে মোট অঙ্কটা ছাড়িয়ে যায় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
এত বিপুল অর্থ একসঙ্গে মেটাতে হলে কেন্দ্র সরকারের অনুমতি নিয়ে ঋণ নিতে হবে— যা সময়সাপেক্ষ। রাজ্যের বক্তব্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে এই বাবদ কোনও সংস্থান রাখা হয়নি।
শুধু আর্থিক চাপ নয়, রাজ্য তাদের নিজস্ব যুক্তিও তুলে ধরেছে। তারা বলছে, ডিএ বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নয়, এটি ‘ঐচ্ছিক’। কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার নয়। সেই সঙ্গে রাজ্য বলেছে, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের মতো নীতিতে চলে না। ‘আরওপিএ ২০০৯’ অনুযায়ী, রাজ্য নিজের মতো করে ডিএ বাড়ায়। কেন্দ্রের হারে ডিএ চালু করার কোনও দায় তাদের নেই, কারণ রাজ্য ও কেন্দ্রের আর্থিক কাঠামো আলাদা।
রাজ্য আরও অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান কমিয়ে দিচ্ছে, যেমন ১০০ দিনের কাজ বা স্বাস্থ্য অভিযান। এমনকি জিএসটি বাবদ কেন্দ্র এখনও রাজ্যকে প্রায় ১.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া দেয়নি। তাই সবদিক বিচার করে এখনই পুরো ডিএ মেটানো সম্ভব নয় বলেই দাবি করেছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট যদি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে কোনও পরিবর্তন না আনে, তবে রাজ্যকে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করতেই হবে, যার পরিমাণ আনুমানিক ১০ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।
এদিকে, বর্তমানে রাজ্যের কর্মচারীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। কিছু মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন, যা এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা যেখানে ৫৫ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে এখনও ৩৭ শতাংশের বিশাল ফারাক রয়েছে।
সব চোখ এখন সোমবারের দিকে। আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেটাই ঠিক করে দেবে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ভবিষ্যৎ ডিএ আদায় কতটা এগোবে, আর রাজ্যের আর্থিক ভার কতটা বাড়বে।