ডিএ মামলায় ফের চাপে রাজ্য সরকার, সুপ্রিম কোর্টে উঠল ‘বিভ্রান্তি তৈরির’ অভিযোগ

ডিএ মামলায় ফের চাপে রাজ্য সরকার! বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে চলা মামলায় ফের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকার আগে যে…

August 7, 2025
1 min read

ডিএ মামলায় ফের চাপে রাজ্য সরকার!

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে চলা মামলায় ফের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকার আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল— রোপা আইনের ভিত্তিতে ডিএ দেওয়া হবে ও বকেয়াও মিটিয়ে দেওয়া হবে— সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্য নিজের বক্তব্য থেকেই পিছিয়ে যাচ্ছে এবং তা ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

এর আগে শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে ডিএ-র ২৫ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল এবং সেই কাজের জন্য ছয় সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেই পরিশোধ না করে, রাজ্য আরও ছ’মাস সময় চেয়ে আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিদিন শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি পিকে মিশ্রর বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়, যেখানে রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান।

সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গও কেন্দ্রীয় সূচক (AICPI) না মানলেও ডিএ দিতে বাধ্য। কেরলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কেন্দ্রীয় সূচক মানা না হলেও কর্মচারীরা নিয়মিত ডিএ পাচ্ছেন। রাজ্য যদি ইচ্ছেমতো নিয়ম তৈরি করে, তাহলে কর্মীদের অধিকার কোথায় থাকে?

আরেক আইনজীবী রউফ রহিমও প্রশ্ন তোলেন— যখন মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, তখন ডিএ না দিলে কর্মীদের জীবনে তার প্রভাব পড়ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডিএ দেওয়া উচিত একটি সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে, খেয়ালখুশিমতো নয়।

জবাবে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, রাজ্য সরকার মূল্যবৃদ্ধি ও বাজেটের সামর্থ্য বিবেচনা করেই ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে না। তিনি জানান, রাজ্যের মেমোতে স্পষ্ট বলা আছে যে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডিএ বাড়ানো হবে, এবং রোপা আইনেও কোথাও বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় সূচক মানার কথা বলা হয়নি।

কিন্তু বিচারপতিদের মতে, রাজ্য সরকার অতীতে রোপা আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এমনকি বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়েও সম্মতি জানায়। তাই এখন সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরা উচিত নয়। শীর্ষ আদালত আরও বলে, এই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে রাজ্য সুবিধা নিতে চাইছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর বকেয়া ডিএ মেটাতে প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। বর্তমান আর্থিক সঙ্কটের কারণে তা সম্ভব নয়, বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে এ বিষয়ে কোনও বরাদ্দ না থাকায়। তাই রাজ্য আরও সময় চায়। একই সঙ্গে আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ পুনর্বিবেচনারও অনুরোধ জানিয়েছে।

এখন সব নজর আগামী মঙ্গলবারের দিকে, যখন মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সরকারি কর্মচারীরা যেমন আশায় রয়েছেন, তেমনই রাজ্য সরকারের কৌশলও নজরে রাখছেন সকলে। ডিএ-র ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।

দোকানের মশলার বদলে ঘরেই বানিয়ে নিন মাংসের স্বাদ বাড়ানোর জাদুমন্ত্র

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *