ডায়াবেটিকদের জন্য শীতের দিনগুলোতে মিষ্টি নয়
পৌষপার্বণ, শীতকাল—এই সময়টাতে বাংলার বিভিন্ন বাড়িতে পিঠে তৈরির এক চমৎকার উৎসব চলে। নানা ধরনের মিষ্টি পিঠে, যেমন ছাঁচের পিঠে, গোকুল পিঠে, দুধপুলি, পাটিসাপটা, তেলের পিঠে—এই সবের গন্ধে ঘরবাড়ি ভরে ওঠে। তবে, যাঁরা ডায়াবিটিস বা ওজন বাড়ানোর ভয়ে মিষ্টি খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য উৎসবের দিনে কিছু বিকল্প থাকতেই হবে। মিষ্টির বদলে এবার পাতে রাখুন নোনতা স্বাদের সরু চাকলি। এটি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি পেট ভরানোও। একেবারে শীতের সকালে রুটি বা পরোটা হিসেবে খাওয়ার জন্য আদর্শ।

উপকরণ:
- ২ কাপ গোবিন্দভোগ চাল
- ১ কাপ বিউলির ডাল
- ১ টেবিল চামচ মৌরি
- স্বাদমতো নুন
- পরিমাণ মতো ঘি
প্রণালী: ১. প্রথমেই বিউলির ডাল সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। এইভাবে ডাল ভালোভাবে নরম হয়ে যাবে। ২. পিঠে তৈরির জন্য গোবিন্দভোগ চালও প্রায় আধ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। ৩. একটি শুকনো তাওয়ায় মৌরি ভেজে নিন এবং তারপর একটু গুঁড়ো করে নিন। মৌরি যেন সঠিকভাবে সেঁকা হয়ে গুঁড়ো হয়ে যায়, এটাই লক্ষ্য। ৪. এরপর মিক্সি বা ব্লেন্ডারে বিউলির ডাল ও গোবিন্দভোগ চাল একসঙ্গে ভালোভাবে বেটে নিন। ৫. বেটে রাখা মিশ্রণে মৌরি, নুন, এবং একটু পরিমাণ মতো জল মিশিয়ে একটি পাতলা মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি সঠিকভাবে মিশে গেলে, সেটা পিঠে বানানোর জন্য প্রস্তুত। ৬. একটি ননস্টিক প্যান মাঝারি আঁচে ভালো করে গরম করে নিন। এরপর সিলিকন ব্রাশ দিয়ে প্যানের উপরে ঘি ব্রাশ করুন। ৭. ডাল-চালের মিশ্রণটি একবার ভালোভাবে ফেটিয়ে একটি গোল হাতায় নিয়ে প্যানের উপরে বড় রুটির আকারে ছড়িয়ে দিন। ৮. উপরে খুব অল্প ঘি দিন। তারপর একটি চাপ দিয়ে রান্না করুন এবং উল্টে উল্টে কিছুক্ষণ ভেজে নিন। তবে সরুচাকলি বেশি ক্ষণ ভাজবেন না, যাতে সাদা রং থাকতে থাকে। ৯. যতটা সম্ভব সাদা রঙের চাকলি রেখে, সেটি প্যান থেকে নামিয়ে নিন। ১০. শীতের সকালে সরু চাকলি পিঠে পরিবেশন করুন। গুড় বা সাদা আলুর তরকারির সঙ্গে মেলে এটি একেবারে নিখুঁত সঙ্গী হয়ে ওঠে।
এই সরু চাকলি তৈরির পদ্ধতি অনেক সহজ এবং সস্তাও। ডায়াবেটিক ও স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য এটি একটি আদর্শ বিকল্প। বিশেষ করে শীতের দিনে, যখন খেতে ইচ্ছে করে কিছু মুচমুচে এবং মজাদার, তখন এই পিঠে একেবারে নিখুঁত খাবার হতে পারে। আপনার পৌষপার্বণ বা শীতের উৎসব এবার শুধুমাত্র মিষ্টির নয়, বরং স্বাদে ও স্বাস্থ্যেও ভারসাম্য রেখে কাটুক।
উত্তুরে হাওয়ার দাপটে শীতের প্রকোপ, তবে পশ্চিমি ঝঞ্ঝায় তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা