ডলার-নির্ভরতা কমাতে রুপি-ইয়েন বাণিজ্যের ভাবনা?
ভারত ও জাপানের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে স্থানীয় মুদ্রায়, অর্থাৎ রুপি ও ইয়েনে সরাসরি বাণিজ্য চালুর সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সঙ্গে বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো। বর্তমানে ভারত ও জাপান— উভয় দেশই অধিকাংশ আন্তর্জাতিক লেনদেনে ডলার ব্যবহার করে। ফলে ডলারের বিনিময় হার ওঠানামা করলে আমদানি-রফতানির খরচও বেড়ে যায়। রুপি-ইয়েনে সরাসরি লেনদেন শুরু হলে সেই ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় জাপানি সংস্থাগুলি ভারতীয় ব্যাঙ্কে বিশেষ অ্যাকাউন্ট খুলে সরাসরি ইয়েন ও রুপিতে বাণিজ্য করতে পারবে। এর ফলে ব্যবসার খরচ কমতে পারে এবং প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই পদক্ষেপকে ডলারের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য এখনও মূলত ডলারেই পরিচালিত হয়। ভারত ও জাপান— দুই দেশই বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের প্রয়োজন ভবিষ্যতেও থাকবে।
আরও একটি বাস্তব সমস্যা হল ভারত-জাপানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আকার এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। পাশাপাশি রুপি ও ইয়েন— দুই মুদ্রারই বিনিময় মূল্য ডলারের তুলনায় বেশি ওঠানামা করে। ফলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা নতুন ব্যবস্থায় কতটা আগ্রহ দেখাবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারত ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মরিশাস এবং রাশিয়া-র সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে সেই ব্যবস্থাগুলি এখনও সীমিত পরিসরেই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে জাপানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।
অন্যদিকে, কৌশলগত দিক থেকে এই উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও জাপান প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। জাপান ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব বাড়লে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
সব মিলিয়ে, রুপি-ইয়েনে সরাসরি বাণিজ্য চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ভারত-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এটি ডলারের আধিপত্য ভেঙে দেবে— এমন দাবি করা এখনই বাস্তবসম্মত নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অতিরিক্ত একটি বিকল্প ব্যবস্থা, যা সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ, বিনিয়োগের প্রবাহ এবং ব্যবসায়ীদের বাস্তব আগ্রহের উপর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?