ডবল ইঞ্জিন সরকারের এক মাস: অনুপ্রবেশ রোধ থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প, কতটা এগোল পশ্চিমবঙ্গ?

ডবল ইঞ্জিন সরকারের এক মাস! রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন, ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিয়ে রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন সরকার। মাত্র এক মাস কোনও সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত মূল্যায়নের…

June 9, 2026
0 min read

ডবল ইঞ্জিন সরকারের এক মাস!

রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন, ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিয়ে রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন সরকার। মাত্র এক মাস কোনও সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তবু এই অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসন, সামাজিক প্রকল্প ও সীমান্ত নিরাপত্তা— একাধিক ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নজর কেড়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান

নতুন সরকারের শুরু থেকেই জোর ছিল দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপে। একশো দিনের কাজ, আবাস প্রকল্প, খাদান ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গত এক মাসে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে।

সরকারের দাবি, অতীতের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের মামলাতেও নতুন করে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বও দলের ভিতরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধ

নির্বাচনের আগে অনুপ্রবেশ রোধকে অন্যতম বড় ইস্যু করেছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সীমান্ত বেড়া নির্মাণের কাজে গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, গত এক মাসে বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পে নতুন গতি

আগের সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে।

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষি, গ্যাস সংযোগ, মহিলা ও শিশু কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বিকল্প ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তুতি চলছে।

সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে পরিবর্তন

রাজ্যের নিজস্ব সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মহিলাদের জন্য ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং নতুন নামে প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বার্ধক্য ভাতার অঙ্কও বাড়ানো হয়েছে।

তবে অনেকের মতে, শুধু ভাতা বৃদ্ধি নয়, কর্মসংস্থান এবং শিল্পে বিনিয়োগের মতো বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একাংশের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী চাকরির সুযোগও বাড়বে।

এক মাসের মূল্যায়ন

মাত্র এক মাসে কোনও সরকারের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে প্রশাসনিক সক্রিয়তা, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নতুন সরকারের প্রথম মাসকে আলোচনায় এনে দিয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এই উদ্যোগগুলি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *