‘ডবল ইঞ্জিন’ অভিযানে ঝড়ের গতি! ১০ দিনে নেতা-পুলিশকর্তা-সহ একাধিক গ্রেফতার, দুর্নীতিবিরোধী বার্তা স্পষ্ট?

‘ডবল ইঞ্জিন’ অভিযানে ঝড়ের গতি! Suvendu Adhikari সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছিল। শপথের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক গ্রেফতারি সেই…

May 19, 2026
1 min read

‘ডবল ইঞ্জিন’ অভিযানে ঝড়ের গতি!

Suvendu Adhikari সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছিল। শপথের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক গ্রেফতারি সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্য পুলিশ, Enforcement Directorate এবং Central Bureau of Investigation— একাধিক সংস্থা একযোগে সক্রিয় হওয়ায় গোটা পরিস্থিতিকে অনেকেই ‘ডবল ইঞ্জিন অভিযান’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী Sujit Bose-র গ্রেফতারি। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি চাকরির সুপারিশের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় তালিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।

এর পরেই নজর কাড়ে Shantanu Singha Biswas-এর গ্রেফতারি। কলকাতা পুলিশের এই ডিসিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেফতার করে ইডি। সোনা পাপ্পু মামলায় আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তাঁকে একাধিক বার তলব করা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে এই গ্রেফতারিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জেলায় জেলায়ও চলছে অভিযান। বহরমপুরে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন এক তৃণমূল কাউন্সিলর। কোচবিহারে ঘুষ নিয়ে বেআইনি বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর অভিযোগে ধরা পড়েছেন প্রাক্তন পুরপ্রধান ও এক পুরকর্মী। নদিয়ায় আবাস যোজনায় কাটমানির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। আসানসোলে তোলাবাজির অভিযোগে ধরা পড়েছেন এক শ্রমিক সংগঠন নেতা।

সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে রাজ্যের নানা প্রান্তে নিয়োগ দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি, বেআইনি অনুমোদন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ডজনের বেশি গ্রেফতারি হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নতুন সরকার শুরুতেই দু’টি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে। প্রথমত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অতীতের তুলনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাজের পথে আর প্রশাসনিক বাধা থাকবে না।

অন্য দিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনের পরে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেই কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ ভাবে সক্রিয় হয়েছে। যদিও সরকারপক্ষের দাবি, আইন আইনের পথেই চলছে এবং দুর্নীতির অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।

নতুন সরকারের শুরুতেই এত দ্রুত ও ধারাবাহিক পদক্ষেপে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যে প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই ‘ঝোড়ো ইনিংস’ আগামী দিনেও একই গতিতে চলতে পারে কি না।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *