ঠোঁটের ভরাট ভাব মুছে ফেলে নিজেকে খুঁজছেন উরফি!
নানান বিতর্কিত পোশাক ও সাহসী ভঙ্গিমায় বারবার শিরোনামে উঠে আসা ইনফ্লুয়েন্সার উরফি জাভেদ ফের আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার কোনও অদ্ভুত ফ্যাশন নয়, বরং নিজের শরীর নিয়ে নেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁকে নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিয়ো পোস্ট করে উরফি জানিয়েছেন, তিনি তাঁর ঠোঁটের ‘ফিলার’ সরিয়ে ফেলেছেন।
ভিডিয়োটি পোস্ট করার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় মিলেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশংসা করেছেন উরফির সাহসিকতার, আবার কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁর হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে। কারও মতে, ঠোঁটের আকার বদলে উরফি আগের চেহারায় ফিরে এসেছেন, কারও আবার আশঙ্কা— এমন সিদ্ধান্ত কি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিফলন?
ভিডিয়োয় উরফি অকপটে বলেন, ‘‘আমি ঠোঁটের ফিলার অনেক দিন ধরেই করিয়ে আসছিলাম। কিন্তু একটা সময়ের পর দেখলাম, সেটা আমার মুখের এক্সপ্রেশন বদলে দিচ্ছে। ঠোঁট ফুলে যাওয়ার কারণে আমি নিজেকে আয়নায় চিনতে পারছিলাম না। তাই এবার পুরোপুরি সরিয়ে ফেললাম ফিলার। এটা একটা রিলিফ। আবার নিজেকে চিনতে পারছি।’’
উরফির এই কথার মধ্যে একরাশ আত্মসমালোচনার ছায়া স্পষ্ট। শোবিজ দুনিয়ার মাপকাঠিতে ‘পারফেক্ট লুক’ পেতে গিয়ে বহু তারকা যেমন কৃত্রিম সৌন্দর্যের আশ্রয় নেন, তেমনই উরফিও নিয়েছিলেন। তবে এখন নিজেকে স্বাভাবিক রূপে ফিরে পাওয়ার ইচ্ছায় যেভাবে তিনি ভরাট ঠোঁটের মোহ কাটিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই দৃষ্টান্ত।
তবে, উরফির এই রূপান্তর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। কেউ লিখেছেন, “এই প্রথম তোমাকে এমন প্রাকৃতিক দেখাচ্ছে”, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “তুমি ঠিক তো? মানসিকভাবে সব ঠিক আছে তো?”
উল্লেখ্য, উরফি জাভেদ বরাবরই নিজের মতামত এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশে সাহসী। সমাজের প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হোক বা ট্রোলের মুখে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান জাহির করা— তিনি কখনও পিছু হটেননি।
তবে এই সিদ্ধান্ত যেন একটা ভিন্ন পর্যায়ের পরিচয় দেয়। শরীর বা চেহারা নিয়ে সামাজিক চাপের মুখে নিজেকে পাল্টে ফেলা যেমন বাস্তব, তেমনই পাল্টে ফেলা সিদ্ধান্ত থেকেও ফিরে আসার স্বাধীনতা থাকা উচিত— সেটাই যেন বার্তা দিলেন উরফি।
আজকের দিনে যেখানে ইনফ্লুয়েন্সারদের পোস্টের পেছনে থাকে কৃত্রিমতা, ফিল্টার আর সাজানো বাস্তব, সেখানে উরফির এমন স্বীকারোক্তি একটা তাজা হাওয়ার মতো। নিজেকে ভালোবাসার, নিজের চেহারাকে গ্রহণ করার এই পদক্ষেপ হয়তো বহু মানুষকে সাহস জোগাবে নিজেদের মতো করে নিজেকে ভালোবাসতে।
এবং উরফি জানিয়ে দিলেন, সাহসিকতা শুধু সাহসী পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিজেকে মেনে নেওয়ার মধ্যেও থাকে তার গভীর রূপ।
শিক্ষার মন্দিরে নিরাপত্তাহীনতা! দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে পুলিশ পিকেট চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ অধ্যাপকরা