ট্রাম্প থাকলে ইউক্রেন যুদ্ধ হত না, দাবি পুতিনের

ট্রাম্প থাকলে ইউক্রেন যুদ্ধ হত না! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর দাবি, যদি ২০২২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকতেন, তবে…

August 16, 2025
1 min read

ট্রাম্প থাকলে ইউক্রেন যুদ্ধ হত না!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর দাবি, যদি ২০২২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকতেন, তবে ইউক্রেন আক্রমণ করত না রাশিয়া। পূর্ব ইউরোপে এত বড় যুদ্ধ শুরুই হত না। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই সময়ে তাঁর সতর্কবার্তা শোনেননি বলেই রাশিয়া বাধ্য হয়েছিল আক্রমণে নামতে।

শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে পুতিন এই মন্তব্য করেন। শুধু তাই নয়, তিনি আমেরিকা ও রাশিয়ার সম্পর্ক ‘মেরামত’ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।

বাইডেনকে সতর্ক করেছিলেন পুতিন

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পুতিন জানান, ২০২২ সালে তিনি আমেরিকার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। খুব স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছিলেন যে, যদি পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকে তবে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, “আমি বারবার বলেছিলাম, বড় ভুল হচ্ছে। এই পথ বিপজ্জনক।” যদিও বাইডেনের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্পকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল একেবারেই ইতিবাচক। রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ব্যবসায়িক এবং বিশ্বাসযোগ্য। আমি বিশ্বাস করি, এই বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্কই ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে পথ খুলে দেবে।”

বৈঠক থেকে কী বার্তা এল?

আলাস্কার বৈঠককে উভয় নেতা ‘ফলপ্রসূ’ এবং ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এখন মূল দায়িত্ব ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির। তাঁর পরামর্শ, জ়েলেনস্কি যেন পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রয়োজনে সেই বৈঠকে তিনিও উপস্থিত থাকবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প।

আমেরিকা-রাশিয়া টানাপোড়েন

২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর আমেরিকা রাশিয়ার উপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রভাব পড়ে খনিজ তেলের দামে। মস্কো তেলের দাম কমিয়ে দেয়, যার ফলে ভারত নিয়মিতভাবে সস্তায় রুশ তেল কিনে আসছে। এই বিষয়টি নিয়েও ওয়াশিংটনের অসন্তোষ স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভারতীয় কেনাকাটার অর্থই ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়ার সহায়ক হচ্ছে। ট্রাম্প এমনকি ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

আগামী দিনের দিকনির্দেশ

আলাস্কার বৈঠকের মূল সুর ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং শান্তির সম্ভাবনা খোঁজা। যদিও যুদ্ধ থামানোর কোনো নিশ্চয়তা এখনই পাওয়া যায়নি, তবুও দুই নেতার প্রকাশ্যে ইতিবাচক বার্তা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন দিকনির্দেশ দিয়েছে। পুতিনের মতে, ট্রাম্পের কূটনৈতিক ধরন অনেক বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, যা আলোচনার পরিবেশকে সহজ করে তোলে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—ট্রাম্প যদি সত্যিই সেই সময়ে ক্ষমতায় থাকতেন, তবে কি ইউক্রেন যুদ্ধ এড়ানো যেত? এই বিতর্ক চলতেই থাকবে। তবে আলাস্কার মঞ্চ থেকে পাওয়া ইঙ্গিত স্পষ্ট—রাশিয়া ও আমেরিকার সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।

কিডনির সমস্যার লুকানো সতর্কবার্তা: কোন লক্ষণে সাবধান হবেন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *