ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাব: গাজ়ায় শান্তির পথে হামাসের শর্ত ও স্বীকৃতি

গাজ়ায় শান্তির পথে হামাসের শর্ত ও স্বীকৃতি! গাজ়ায় দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উত্তেজনা কমাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইজ়রায়েল এবং প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস—উভয়েই প্রাথমিকভাবে এই…

October 4, 2025
0 min read

গাজ়ায় শান্তির পথে হামাসের শর্ত ও স্বীকৃতি!

গাজ়ায় দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উত্তেজনা কমাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইজ়রায়েল এবং প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস—উভয়েই প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন। এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, বাস্তবে কতটা শান্তি সম্ভব এবং কোথায় রয়েছে এখনও দ্বিধা বা শর্ত।

হামাস শুক্রবার ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ দফা তারা স্বাগত জানাচ্ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ‘শর্তসাপেক্ষ’ অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। তারা বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং আলোচনার টেবিলে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

কোথায় মিলছে মতবিনিময়

ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইজ়রায়েল প্রকাশ্য সমর্থন জানালে হামাস পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত ইজ়রায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দেবে। এছাড়া, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গ্রেফতার হওয়া প্যালেস্টাইনপন্থী বন্দিরাও ছাড়া হবে। হামাস জানিয়েছেন, প্রস্তাবের শর্ত অনুযায়ী গাজ়া থেকে সব পণবন্দি—জীবিত বা মৃত—মুক্ত করা হবে, যদিও কিছু ‘প্রয়োজনীয় শর্ত’ এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইজ়রায়েল ধাপে ধাপে গাজ়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এই সময় বন্দিদের মুক্তির প্রস্তুতি চলবে এবং কোনও বোমাবর্ষণ বা হামলা হবে না। হামাস এই পরিকল্পনার সঙ্গে আপাতত একমত, তবে প্রত্যাহারের বিস্তারিত দফা নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

ত্রাণ ও পুনর্নির্মাণও প্রস্তাবের অংশ। গাজ়ার ধ্বংসস্তূপ সরানো, হাসপাতাল ও বেকারি পুনর্নির্মাণ এবং রাস্তা নির্মাণ শুরু করা হবে। রাষ্ট্রপুঞ্জ, রেড ক্রেসেন্ট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এই কাজগুলো সম্পাদন করবে। হামাস এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গাজ়া থেকে প্যালেস্টাইনিদের সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত বিরোধী তারা।

কোথায় রয়েছে মতানৈক্য

ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজ়ায় অস্থায়ী অরাজনৈতিক সরকার তৈরি হবে, যেখানে প্যালেস্টাইন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তবে হামাস পুরোপুরি এতে রাজি নয়। তারা মনে করে, গাজ়ার প্রশাসনিক দায়িত্ব একেবারে প্যালেস্টাইনপন্থী সংস্থার হাতে থাকা উচিত, যা ইসলামি এবং আরব দেশগুলোর সমর্থিত হবে।

‘অসামরিকীকরণ’ বিষয়েও হামাস আপাতত কোনো মন্তব্য করেনি। তারা মনে করছে, গাজ়ার প্রশাসনে নিজেদের যোগ থাকা প্রয়োজন। ট্রাম্প প্রস্তাব করেছেন যে, হামাসের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকবে না। এ নিয়ে এখনও আলোচনা ও দ্বিধা রয়ে গেছে।

গাজ়ার শান্তি ফেরানোর এই ২০ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে হামাসের শর্ত এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এখনও কিছু ‘কাঁটা’ রয়ে গেছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা ছাড়া সম্ভব নয়।

কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *