ট্রাম্পের বিদায়ী বার্তায় ফের ভারত-পাকিস্তান!
হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্কের বিদায়ী সাংবাদিক বৈঠকটি ছিল আবেগঘন ও আলোচনাসমৃদ্ধ। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে চমক জোগান ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই—যখন তিনি আবারও তুললেন ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ ও আমেরিকার মধ্যস্থতার প্রসঙ্গ। মাস্ককে পাশে রেখে ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করলেন, “আমাদের হস্তক্ষেপেই যুদ্ধ থেমেছে। এটা না হলে বিষয়টি পারমাণবিক বিপর্যয়ের দিকে গড়াত।”
মাস্কের বিদায়, ট্রাম্পের কূটনৈতিক চমক
দু’দিন আগেই ইলন মাস্ক ঘোষণা করেন, তিনি হোয়াইট হাউসের পরামর্শদাতা পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। সেই ঘোষণার পর শুক্রবার (আমেরিকার সময় অনুযায়ী) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মাস্ক একসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। যদিও আলোচনার মূল বিষয় ছিল মাস্কের বিদায় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, তবে ট্রাম্পের বক্তব্য ঘুরে গেল দক্ষিণ এশিয়ার দিকে।
তিনি বলেন, “আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধ থেকে বিরত রেখেছি। এটা বড় ব্যাপার। আমি বিশ্বাস করি, যদি বিষয়টি আরও বাড়ত, তাহলে সেটি পরমাণু যুদ্ধেও পরিণত হতে পারত।”
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপট
২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। এই হামলার দায় পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপায় ভারত। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনা—নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হয়।
এর জবাবে পাকিস্তানও হামলা চালায়, ফলে টানা চার দিন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে ওঠে। অবশেষে ১০ মে দুই পক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছায়।
সংঘর্ষবিরতির দাবিদার ট্রাম্প
এই সংঘর্ষবিরতির পর ট্রাম্প প্রথম জানান, আমেরিকার মধ্যস্থতাতেই এই শান্তি সম্ভব হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তাদের বুঝিয়ে দেন যুদ্ধ নয়, শান্তিই সমাধান। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “যারা একে অপরকে গুলি করছে, তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে না। এই বার্তাটি কাজ করেছে।”
ভারত যদিও এই মধ্যস্থতার দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, সংঘর্ষবিরতি হয়েছে দুই দেশের সেনাবাহিনীর সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে, ‘হটলাইন’ ব্যবহার করে।
ট্রাম্পের প্রশংসা, বার্তা ও বারুদের গন্ধ
সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প একদিকে যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তানের নেতাদের ধন্যবাদ জানান, তেমনই নিজের দেশের সেনাবাহিনীর প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, “আমরা অন্যদের যুদ্ধ থামাতে পারি, কারণ আমরা যুদ্ধ সবচেয়ে ভালো করি। বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনী ও নেতৃত্ব আমাদেরই আছে।”
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রয়েছে শক্তি প্রদর্শন ও কূটনৈতিক আধিপত্য। আর মাস্ককে পাশে রেখে তিনি একধরনের শক্তিশালী বার্তা দিলেন গোটা দুনিয়াকে—বিশ্বশক্তির ভার এখনও আমেরিকার হাতেই।
বেলের পানা: মোগল দরবার থেকে ওড়িশার পুজোর প্রসাদ—ভারতের প্রাচীন শরবতের আশ্চর্য যাত্রা